লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ইইউ ও জি৭৭

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব সেভেনটি সেভেন অ্যান্ড চায়না (জি৭৭)। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি বৈঠকে এই সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে এলএফএমইএবি সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বৈঠকগুলোতে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন। এ সময় তিনি সুশাসন জোরদার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, বাড়তি সময় পেলে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াটি টেকসই ও অপরিবর্তনীয় হবে।

ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস বাংলাদেশের সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তিনি উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর যুক্তিকে শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন এবং জি৭৭-এর পক্ষ থেকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি পৃথক ব্রিফিংয়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল স্বাগত জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ইইউর সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণে ইইউ তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬: ১৫আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬: ১৭

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরের মাঠে ৩ প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, সূচি প্রকাশ

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ইইউ ও জি৭৭

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব সেভেনটি সেভেন অ্যান্ড চায়না (জি৭৭)। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি বৈঠকে এই সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে এলএফএমইএবি সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বৈঠকগুলোতে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন। এ সময় তিনি সুশাসন জোরদার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, বাড়তি সময় পেলে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াটি টেকসই ও অপরিবর্তনীয় হবে।

ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস বাংলাদেশের সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তিনি উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর যুক্তিকে শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন এবং জি৭৭-এর পক্ষ থেকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে জি-৭৭ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি পৃথক ব্রিফিংয়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন, যা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল স্বাগত জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ইইউর সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণে ইইউ তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬: ১৫আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬: ১৭