লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার আদনান নজির আরাঈ ও তার অপতৎপরতা

৮ নভেম্বর ২০১৮ সালে 'আহমদ ঈসা' নামে এক ব্যক্তি 'নাবা সেভেন' নামক ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নবুওয়তের মিথ্যা দাবি উত্থাপন করে। সে ঘোষণা দেয় যে, তার রচিত 'আল-কিতাব' চ্যালেঞ্জ করার মতো দুনিয়াতে কোনো শক্তি নেই এবং সে-ই আল্লাহর রাসুল। এই ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে মানতে অস্বীকার করে এবং খতমে নবুওয়তের আকিদাকে মূর্খতা ও ভ্রষ্টতা বলে অভিহিত করে। সে তার ভিডিও ক্লিপে দাবি করেছে, মুহাম্মদ (সা.) তাদের ভাষাভাষী নন এবং তাকে তাদের মাঝে নবী হিসেবে পাঠানো হয়নি।

তদন্তে জানা যায়, এই ভণ্ড দাবিদারের প্রকৃত নাম আদনান নজির আরাঈ। সে পাকিস্তানের গুজরাত প্রদেশের খাটানা শহরের বাসিন্দা। তার জীবন শুরু থেকেই বিভিন্ন কুকর্মে লিপ্ত ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। সে অতীতে তার গ্রামের যুবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দিয়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। তার বাবা রেলস্টেশনে আইসক্রিম বিক্রি করতেন। আদনান স্পেনে গিয়ে কাদিয়ানিদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে এবং বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে পুনরায় স্পেনে চলে যায়। এরপরই সে ভিডিওর মাধ্যমে নবুওয়তের দাবি করে। গ্রামবাসীরা তার বাড়িতে এবং শ্বশুরবাড়ি লালামোছাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে জানতে পারে যে, ১০ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে তার ভাই স্ত্রী-পুত্রসহ তাকে নিয়ে স্পেন পালিয়ে গেছে।

আহমদ ঈসা মূলত ইহুদিদের দালাল হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার ইউটিউব চ্যানেলের নাম 'নাবা সেভেন' হিব্রু শব্দ থেকে নেওয়া, যার অর্থ 'ভবিষ্যতের খবর প্রদানকারী'। সে নিজেকে আইএসের অনুচর হিসেবেও পরিচিত করার চেষ্টা করছে। তার রচিত 'আল-কিতাব' বইটিতে অসংখ্য ব্যাকরণগত ভুল ও স্ববিরোধী বক্তব্য রয়েছে। সে একদিকে কোরআনকে নিজের দলিল হিসেবে পেশ করছে, আবার অন্যদিকে মুহাম্মদ (সা.)-এর নবী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে। পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ নবী হওয়ার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত, যা উপেক্ষা করা কুফরি।

আহমদ ঈসার নবুওয়ত দাবির পেছনে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মতো কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার দাবি, কোরআন কেবল ইতিহাসের বই এবং এতে ঈসা (আ.)-এর আলোচনা বেশি, যার মাধ্যমে সে নিজেকে ঈসা (আ.) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। উলামায়ে কেরাম তার এই মিথ্যা দাবির মুখোশ উন্মোচন করছেন এবং মুসলিমদের তার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও সরাসরি বিতর্কে আসার আহ্বানে সাড়া দেয়নি, যা তার ভণ্ডামিরই প্রমাণ বহন করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার আদনান নজির আরাঈ ও তার অপতৎপরতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

৮ নভেম্বর ২০১৮ সালে 'আহমদ ঈসা' নামে এক ব্যক্তি 'নাবা সেভেন' নামক ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নবুওয়তের মিথ্যা দাবি উত্থাপন করে। সে ঘোষণা দেয় যে, তার রচিত 'আল-কিতাব' চ্যালেঞ্জ করার মতো দুনিয়াতে কোনো শক্তি নেই এবং সে-ই আল্লাহর রাসুল। এই ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে মানতে অস্বীকার করে এবং খতমে নবুওয়তের আকিদাকে মূর্খতা ও ভ্রষ্টতা বলে অভিহিত করে। সে তার ভিডিও ক্লিপে দাবি করেছে, মুহাম্মদ (সা.) তাদের ভাষাভাষী নন এবং তাকে তাদের মাঝে নবী হিসেবে পাঠানো হয়নি।

তদন্তে জানা যায়, এই ভণ্ড দাবিদারের প্রকৃত নাম আদনান নজির আরাঈ। সে পাকিস্তানের গুজরাত প্রদেশের খাটানা শহরের বাসিন্দা। তার জীবন শুরু থেকেই বিভিন্ন কুকর্মে লিপ্ত ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। সে অতীতে তার গ্রামের যুবকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দিয়ে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। তার বাবা রেলস্টেশনে আইসক্রিম বিক্রি করতেন। আদনান স্পেনে গিয়ে কাদিয়ানিদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করে এবং বাবার মৃত্যুর পর দেশে ফিরে পুনরায় স্পেনে চলে যায়। এরপরই সে ভিডিওর মাধ্যমে নবুওয়তের দাবি করে। গ্রামবাসীরা তার বাড়িতে এবং শ্বশুরবাড়ি লালামোছাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে জানতে পারে যে, ১০ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে তার ভাই স্ত্রী-পুত্রসহ তাকে নিয়ে স্পেন পালিয়ে গেছে।

আহমদ ঈসা মূলত ইহুদিদের দালাল হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার ইউটিউব চ্যানেলের নাম 'নাবা সেভেন' হিব্রু শব্দ থেকে নেওয়া, যার অর্থ 'ভবিষ্যতের খবর প্রদানকারী'। সে নিজেকে আইএসের অনুচর হিসেবেও পরিচিত করার চেষ্টা করছে। তার রচিত 'আল-কিতাব' বইটিতে অসংখ্য ব্যাকরণগত ভুল ও স্ববিরোধী বক্তব্য রয়েছে। সে একদিকে কোরআনকে নিজের দলিল হিসেবে পেশ করছে, আবার অন্যদিকে মুহাম্মদ (সা.)-এর নবী হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে। পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে মুহাম্মদ (সা.)-এর শেষ নবী হওয়ার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত, যা উপেক্ষা করা কুফরি।

আহমদ ঈসার নবুওয়ত দাবির পেছনে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মতো কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার দাবি, কোরআন কেবল ইতিহাসের বই এবং এতে ঈসা (আ.)-এর আলোচনা বেশি, যার মাধ্যমে সে নিজেকে ঈসা (আ.) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। উলামায়ে কেরাম তার এই মিথ্যা দাবির মুখোশ উন্মোচন করছেন এবং মুসলিমদের তার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও সরাসরি বিতর্কে আসার আহ্বানে সাড়া দেয়নি, যা তার ভণ্ডামিরই প্রমাণ বহন করে।