লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৫৪ নদী ভরাট, মিষ্টি পানির হিস্যা দাবি প্রতিমন্ত্রীর

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, উপর থেকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় ভাটি থেকে আসা পলি জমে প্রায় ৫৪টি নদী এবং কয়েকশ খাল-বিল ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সুন্দরবন ও এর চারপাশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা অবশ্যই দিতে হবে বলে তিনি জোর দাবি জানান।

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, কেবল diplomatic আলোচনা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে মিষ্টি পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ভারতের সাথে কার্যকর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা তিনি সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। উপর থেকে মিষ্টি পানি না এলে সাগরের লবণাক্ত পানির প্রভাবে সুন্দরীসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মানুষের বা কোনো দেশের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ সুন্দরবনের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলবে উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বনের আশপাশে গড়ে ওঠা লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে সাড়ে ৩ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় রোপণ করা হবে। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্বিচারে গাছ না লাগিয়ে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সুষম বৃক্ষায়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমে বেসরকারি সংস্থাসহ (এনজিও) বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বজ্রপাত মোকাবিলায় চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। তাল ও নারকেলের মতো উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার খাল খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো প্রকৃতিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করতে জাহাঙ্গীরনগর ও বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগের প্রশংসা করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা সবার দায়িত্ব। বিকাশের সহায়তায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ এবং তিন বছরের জন্য সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এস এম রুবায়েত আবদুল্লাহ এবং বিকাশের এভিপি হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিকাশের মারিয়া হাসান ঐশী।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৭ বছর আত্মগোপনে থাকা এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৫৪ নদী ভরাট, মিষ্টি পানির হিস্যা দাবি প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, উপর থেকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় ভাটি থেকে আসা পলি জমে প্রায় ৫৪টি নদী এবং কয়েকশ খাল-বিল ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সুন্দরবন ও এর চারপাশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভারতকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা অবশ্যই দিতে হবে বলে তিনি জোর দাবি জানান।

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, কেবল diplomatic আলোচনা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে মিষ্টি পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ভারতের সাথে কার্যকর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা তিনি সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। উপর থেকে মিষ্টি পানি না এলে সাগরের লবণাক্ত পানির প্রভাবে সুন্দরীসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মানুষের বা কোনো দেশের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ সুন্দরবনের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলবে উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বনের আশপাশে গড়ে ওঠা লাল শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে সাড়ে ৩ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় রোপণ করা হবে। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্বিচারে গাছ না লাগিয়ে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা সুষম বৃক্ষায়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমে বেসরকারি সংস্থাসহ (এনজিও) বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বজ্রপাত মোকাবিলায় চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। তাল ও নারকেলের মতো উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার খাল খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো প্রকৃতিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করতে জাহাঙ্গীরনগর ও বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগের প্রশংসা করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খুলনাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা সবার দায়িত্ব। বিকাশের সহায়তায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ এবং তিন বছরের জন্য সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এস এম রুবায়েত আবদুল্লাহ এবং বিকাশের এভিপি হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিকাশের মারিয়া হাসান ঐশী।