লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলে অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধ করলেন প্রেসিডেন্ট লুলা

ব্রাজিলে অনলাইন স্পোর্টস বেটিংসহ নির্দিষ্ট মুনাফাভিত্তিক বা ‘স্থির-অডস’ বেটিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। পরিবারগুলোকে বেটিংয়ের কারণে সৃষ্ট ঋণ ও আসক্তির ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। সাও পাওলোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লুলা এই পদক্ষেপকে ‘কঠিন, দ্রুত ও প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেন। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও তিনি বেটিং শিল্পের সমালোচনা করে এই খাতকে আসক্তি থেকে মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

নতুন এই নির্বাহী আদেশের ফলে স্থির-অডস বেটিং পরিচালনা, অফার, মধ্যস্থতা এবং এ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে বেটিং অ্যাকাউন্টে নতুন করে অর্থ জমা দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেদের অর্থ তুলে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ এবং অবশিষ্ট অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার। এই অস্থায়ী আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও ১২০ দিনের মধ্যে ব্রাজিলের কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সরকার এই খাতের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়াতে একটি পৃথক বিলও তৈরি করেছে, যেখানে স্থির-অডস বেটিং প্রচার এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। লুলার প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো বিষয়টিকে একটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ব্রাজিলে ঐতিহাসিকভাবে জুয়া নিষিদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের সুযোগ উন্মুক্ত করেন। পরবর্তীতে জাইর বলসোনারোর শাসনামলে এই খাত ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লুলার সরকার বেটিং কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় এবং অনিয়মিত দুই হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মানুষ প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন রিয়াইস পর্যন্ত অনলাইন বেটিংয়ে ব্যয় করছিলেন।

এই নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও নানা মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পোর্টস বেটিং থেকে ব্রাজিলে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হতো। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব স্পনসরশিপ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে অনলাইন বেটিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন গেমিংয়ের কিছু ধরনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত অন্যান্য লটারি কার্যক্রম এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদাবরে রামদা-চাপাতি নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার

ব্রাজিলে অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধ করলেন প্রেসিডেন্ট লুলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাজিলে অনলাইন স্পোর্টস বেটিংসহ নির্দিষ্ট মুনাফাভিত্তিক বা ‘স্থির-অডস’ বেটিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। পরিবারগুলোকে বেটিংয়ের কারণে সৃষ্ট ঋণ ও আসক্তির ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। সাও পাওলোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লুলা এই পদক্ষেপকে ‘কঠিন, দ্রুত ও প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেন। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও তিনি বেটিং শিল্পের সমালোচনা করে এই খাতকে আসক্তি থেকে মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

নতুন এই নির্বাহী আদেশের ফলে স্থির-অডস বেটিং পরিচালনা, অফার, মধ্যস্থতা এবং এ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে বেটিং অ্যাকাউন্টে নতুন করে অর্থ জমা দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেদের অর্থ তুলে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ এবং অবশিষ্ট অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার। এই অস্থায়ী আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও ১২০ দিনের মধ্যে ব্রাজিলের কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সরকার এই খাতের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়াতে একটি পৃথক বিলও তৈরি করেছে, যেখানে স্থির-অডস বেটিং প্রচার এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। লুলার প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো বিষয়টিকে একটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ব্রাজিলে ঐতিহাসিকভাবে জুয়া নিষিদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের সুযোগ উন্মুক্ত করেন। পরবর্তীতে জাইর বলসোনারোর শাসনামলে এই খাত ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লুলার সরকার বেটিং কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় এবং অনিয়মিত দুই হাজারের বেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির মানুষ প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন রিয়াইস পর্যন্ত অনলাইন বেটিংয়ে ব্যয় করছিলেন।

এই নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও নানা মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্পোর্টস বেটিং থেকে ব্রাজিলে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হতো। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব স্পনসরশিপ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে অনলাইন বেটিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন গেমিংয়ের কিছু ধরনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত অন্যান্য লটারি কার্যক্রম এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।