লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জের খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় এই ভাঙন দেখা দেয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং অনেক বসতঘরে পানি ঢুকে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আজ শুক্রবার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ ও হামুয়াসহ আশপাশের এলাকা দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ-ভায়া-ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ-ভায়া-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের বৈদ্দার বাজার, সুঘর ও বনগাঁও এলাকার অংশ আজ দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ফুট পানির নিচে থাকায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্লাবিত এলাকায় অনেক কাঁচা সড়ক ডুবে গেছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুঘর গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাঁধ ভাঙার পানির আওয়াজ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আলী জানান, এলাকার স্কুল বা মাদ্রাসাগুলোও তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে যে যার মতো উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার জানানোর পরও তারা মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি।

বাঁধ ভাঙার পরপরই গতকাল রাতে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি শুকনা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পানি আরও বাড়লে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারীকে বরখাস্ত করলেন পিট হেগসেথ

হবিগঞ্জে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জের খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় এই ভাঙন দেখা দেয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং অনেক বসতঘরে পানি ঢুকে স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আজ শুক্রবার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।

বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কালিগঞ্জ ও হামুয়াসহ আশপাশের এলাকা দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ-ভায়া-ধুলিয়াখাল-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ-ভায়া-মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের বৈদ্দার বাজার, সুঘর ও বনগাঁও এলাকার অংশ আজ দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ফুট পানির নিচে থাকায় ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্লাবিত এলাকায় অনেক কাঁচা সড়ক ডুবে গেছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুঘর গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাঁধ ভাঙার পানির আওয়াজ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আলী জানান, এলাকার স্কুল বা মাদ্রাসাগুলোও তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে যে যার মতো উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশটি আগে থেকেই দুর্বল ছিল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার জানানোর পরও তারা মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি।

বাঁধ ভাঙার পরপরই গতকাল রাতে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি শুকনা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পানি আরও বাড়লে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।