লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে মিলল ৩০০ কোট ও ৮ গাড়ির চাবি

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানের প্রথম দিনে ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্স ঘড়ির বক্স, আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা ও ঝাড়বাতিসহ নানা মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। পুলিশের উপস্থিতিতে উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল এই ইনভেন্টরির কাজ করছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, প্রথম দিনের তালিকায় প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, চারটি রোলেক্সসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, আসবাবপত্র এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবারও ইনভেন্টরির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট দুটি তালা ভেঙে দুদক দখলে নিয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের আগেই মূল্যবান অনেক মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধারকৃত রোলেক্স ঘড়ির একটি ওয়ারেন্টি কার্ড থেকে জানা যায়, ১৮ ক্যারেট সাদা সোনার তৈরি রোলেক্স সেলিনি মডেলের ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে কেনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে এর বর্তমান মূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা। ফ্ল্যাট দুটি এখন দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। সংস্থাটির তথ্যমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে যুক্তরাজ্যে তার ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে ৩৩০টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে 

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে মিলল ৩০০ কোট ও ৮ গাড়ির চাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানের প্রথম দিনে ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্স ঘড়ির বক্স, আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা ও ঝাড়বাতিসহ নানা মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। পুলিশের উপস্থিতিতে উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল এই ইনভেন্টরির কাজ করছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, প্রথম দিনের তালিকায় প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, চারটি রোলেক্সসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, আসবাবপত্র এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবারও ইনভেন্টরির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট দুটি তালা ভেঙে দুদক দখলে নিয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের আগেই মূল্যবান অনেক মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধারকৃত রোলেক্স ঘড়ির একটি ওয়ারেন্টি কার্ড থেকে জানা যায়, ১৮ ক্যারেট সাদা সোনার তৈরি রোলেক্স সেলিনি মডেলের ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোর থেকে কেনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে এর বর্তমান মূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা। ফ্ল্যাট দুটি এখন দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। সংস্থাটির তথ্যমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে আদালতের নির্দেশে যুক্তরাজ্যে তার ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে ৩৩০টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।