লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেন-জি আন্দোলন দমাতে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে মোদি সরকার

ভারতে চলমান জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্থানীয় থানাগুলো থেকে বিক্ষোভকারীদের ফোনে কল করা হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাদের সতর্ক করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থিত এই আন্দোলনের প্রভাব মুম্বাইয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগে মামলা হয়েছে বা আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে স্থানীয় থানা থেকে তাদের বাড়িতে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটেও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত লাইভ লোকেশন চাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

পুলিশ শুধুমাত্র ফোন বা বার্তার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মুম্বাই ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ তাদের চলমান তদন্ত সম্পর্কে অবহিত করছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জনসমাবেশে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া বিক্ষোভস্থলের দিকে যাতায়াত ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো ও রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার আগেই ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও স্থানীয় থানাগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যাতে তল্লাশি বা নজরদারির সময় তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপগুলোকে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, তরুণদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট পাওয়া, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই ঝুঁকি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীদের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা পুলিশের এই ব্যাখ্যার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লাইভ লোকেশন চাওয়া এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো ঘটনাগুলো সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরেও সিজেপি সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে নিট-ইউজি ২০২৬সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

জেন-জি আন্দোলন দমাতে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে মোদি সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতে চলমান জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্থানীয় থানাগুলো থেকে বিক্ষোভকারীদের ফোনে কল করা হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তাদের সতর্ক করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থিত এই আন্দোলনের প্রভাব মুম্বাইয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে টানা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগে মামলা হয়েছে বা আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে স্থানীয় থানা থেকে তাদের বাড়িতে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটেও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত লাইভ লোকেশন চাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

পুলিশ শুধুমাত্র ফোন বা বার্তার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মুম্বাই ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ তাদের চলমান তদন্ত সম্পর্কে অবহিত করছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জনসমাবেশে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া বিক্ষোভস্থলের দিকে যাতায়াত ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো ও রেলস্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার আগেই ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও স্থানীয় থানাগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যাতে তল্লাশি বা নজরদারির সময় তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপগুলোকে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, তরুণদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট পাওয়া, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই ঝুঁকি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীদের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা পুলিশের এই ব্যাখ্যার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লাইভ লোকেশন চাওয়া এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো ঘটনাগুলো সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরেও সিজেপি সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে নিট-ইউজি ২০২৬সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।