লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের মহাকাশ যাত্রায় নতুন মাইলফলক, মহাকাশে জার্মান রকেট

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৫

জার্মান স্টার্টআপ ইসার অ্যারোস্পেস শনিবার আর্কটিক নরওয়ের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে তাদের প্রথম সফল রকেট উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে মহাদেশীয় ইউরোপের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের পথে একটি বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

উৎক্ষেপিত মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি ছিল মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। ইসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এই সাফল্যকে ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছে। রকেটটি পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম বহন করছিল, যা মূলত ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোডের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথ এই উৎক্ষেপণকে ইউরোপের মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্দোয়া থেকে এই সক্ষমতা অর্জন বর্তমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। ইউরোপের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছিলেন।

এটি ছিল ইসারের দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে একই স্থান থেকে প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছিল। যদিও সেই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি, তবে মিশন থেকে সংগৃহীত তথ্যকে প্রতিষ্ঠানটি সফল হিসেবে গণ্য করেছিল। দীর্ঘ ১৮ মাসের ব্যবধানে শনিবারের এই মিশনটি রকেটের সক্ষমতা যাচাই ও পেলোড বহনের ক্ষেত্রে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত হলো।

বর্তমানে মহাকাশ উৎক্ষেপণের বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স এবং ফ্রান্সের এয়ারিয়ানগ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তবে ইউরোপের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সুইডেনের এসরেঞ্জ এবং যুক্তরাজ্যের স্যাক্সাভর্ড স্পেসপোর্টের মতো উদ্যোগগুলোও কাজ করছে। ইসার অ্যারোস্পেস সম্প্রতি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসা) থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো অর্থায়ন পেয়েছে, যা তাদের রকেট নির্মাণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কানাডায় দ্বিতীয় একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের ‘আত্মঘাতী’ নীতিতেই বর্তমান জ্বালানি সংকট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউরোপের মহাকাশ যাত্রায় নতুন মাইলফলক, মহাকাশে জার্মান রকেট

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩০:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৫

জার্মান স্টার্টআপ ইসার অ্যারোস্পেস শনিবার আর্কটিক নরওয়ের আন্দোয়া স্পেসপোর্ট থেকে তাদের প্রথম সফল রকেট উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে মহাদেশীয় ইউরোপের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের পথে একটি বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

উৎক্ষেপিত মনুষ্যবিহীন স্পেকট্রাম রকেটটি ছিল মহাদেশীয় ইউরোপ থেকে কক্ষপথে পৌঁছানো প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট। ইসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এই সাফল্যকে ইউরোপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছে। রকেটটি পাঁচটি ছোট স্যাটেলাইট এবং একটি উড্ডয়নকালীন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সরঞ্জাম বহন করছিল, যা মূলত ছোট ও মাঝারি আকারের পেলোডের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

নরওয়ের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সিসিলি মাইরসেথ এই উৎক্ষেপণকে ইউরোপের মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্দোয়া থেকে এই সক্ষমতা অর্জন বর্তমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নরওয়ে ও ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। ইউরোপের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছিলেন।

এটি ছিল ইসারের দ্বিতীয় রকেট উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে একই স্থান থেকে প্রথম রকেটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছিল। যদিও সেই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি, তবে মিশন থেকে সংগৃহীত তথ্যকে প্রতিষ্ঠানটি সফল হিসেবে গণ্য করেছিল। দীর্ঘ ১৮ মাসের ব্যবধানে শনিবারের এই মিশনটি রকেটের সক্ষমতা যাচাই ও পেলোড বহনের ক্ষেত্রে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাফল্য হিসেবে স্বীকৃত হলো।

বর্তমানে মহাকাশ উৎক্ষেপণের বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স এবং ফ্রান্সের এয়ারিয়ানগ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তবে ইউরোপের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সুইডেনের এসরেঞ্জ এবং যুক্তরাজ্যের স্যাক্সাভর্ড স্পেসপোর্টের মতো উদ্যোগগুলোও কাজ করছে। ইসার অ্যারোস্পেস সম্প্রতি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসা) থেকে প্রায় ২০ কোটি ইউরো অর্থায়ন পেয়েছে, যা তাদের রকেট নির্মাণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি কানাডায় দ্বিতীয় একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।