লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত জনজীবন, নিহত ৮

দেশজুড়ে টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সাগরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ শিশু নিহত হয়েছে এবং ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে। বান্দরবানে পাহাড়ি ঢলে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় পাহাড়ি সড়কে সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। রেললাইনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাহাড়তলী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। প্রশাসন জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত জনজীবন, নিহত ৮

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সাগরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ শিশু নিহত হয়েছে এবং ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে। বান্দরবানে পাহাড়ি ঢলে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় পাহাড়ি সড়কে সতর্কতার সাথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। রেললাইনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাহাড়তলী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, ট্র্যাক নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। প্রশাসন জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।