লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈমান ও নিরাপত্তার ছায়াতলে সুখী জীবন ও সমৃদ্ধ সমাজের রূপরেখা

ইসলাম পৃথিবীতে এসেছে একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত প্রতিষ্ঠা করতে এবং এর ভিত্তিকে মজবুত করতে। একই সঙ্গে আল্লাহর বান্দাদের ওপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যে হক রয়েছে এবং মানুষের একে অপরের প্রতি যে অধিকার রয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেই ইসলামের আগমন। একজন মুসলিম যখন আল্লাহর খাঁটি বান্দা হয়ে তাঁর ও রাসুলের আনুগত্য করে, তখন সে সুরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহিদ ও সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গী হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, সৎ ব্যক্তি তিনিই যিনি আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হকও যথাযথভাবে আদায় করেন। নামাজের তাশাহহুদে 'আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক' বলে যে দোয়া করা হয়, সৎ ব্যক্তিরা এর অন্তর্ভুক্ত হন। সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, প্রতিবেশী, সঙ্গী, মুসাফির ও দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে আলেম সমাজ 'অধিকারগুলোর আয়াত' বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া সুরা আহজাবের ৬ নম্বর আয়াতে নবীকে মুমিনদের নিজের চেয়েও ঘনিষ্ঠতর এবং সুরা তাওবার ১২০ নম্বর আয়াতে রাসুলের জীবনকে নিজেদের জীবনের চেয়ে প্রিয় জ্ঞান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর সুরা আনফালের ১ নম্বর আয়াতে মুমিনদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যকে অপরিহার্য করা হয়েছে।

শান্তি, নিরাপত্তা ও রহমত প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে আসা ইসলাম প্রথম থেকেই মুমিনদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সুরা আনআামের ৮২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম বা শিরক দিয়ে কলুষিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে প্রকৃত নিরাপত্তা ও হেদায়েত। যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান অর্জন করে এবং সব ধরনের শিরক ও গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পক্ষান্তরে, ঈমানে ঘাটতি থাকলে এবং নিজের বা অন্যের ওপর জুলুম করলে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি ও নিরাপত্তা ততটাই বিঘ্নিত হয়। সুরা রাদের ২৮-২৯ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই কেবল চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং সৎকর্মশীলদের জন্য রয়েছে পরম আনন্দ ও শুভ পরিণাম। সুরা নাহলের ৯৭ নম্বর আয়াতে মুমিন পুরুষ ও নারীকে পবিত্র জীবন এবং তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

একটি দেশে যখন পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সেখানে দ্বীন শক্তিশালী ও সম্মানিত হয়ে ওঠে। নামাজ, জুমা ও জামাত নির্বিঘ্নে আদায় করা যায়। মানুষের জানমাল, ইজ্জত রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুশৃঙ্খল হয়। পথঘাট নিরাপদ হলে শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়, রিজিক সহজলভ্য হয় এবং সমাজে সমৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আল্লাহ এই দ্বীনকে পূর্ণতা দেবেন, যার ফলে একজন আরোহী সানআ থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করলেও আল্লাহ ও নেকড়ে ছাড়া আর কোনো ভয় থাকবে না (বোখারি: ৩৬১২)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই এই নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছিল। আদি ইবন হাতিম (রা.) সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নিজে একজন নারীকে হিরা থেকে এসে কোনো ভয় ছাড়াই কাবাঘর তাওয়াফ করতে দেখেছেন (বোখারি: ৩৫৯৫)।

ইসলামের প্রতিটি ইবাদত পালনেও নিরাপত্তার গুরুত্ব অপরিসীম। সুরা বাকারার ২৩৮-২৩৯ আয়াতে ভয়ের সময় ইশারায় নামাজ এবং নিরাপদ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জাকাত আদায় এবং হজের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুরা বাকারার ১৯৬ আয়াতে হজের সময় নিরাপদ হওয়ার পর কোরবানি করার কথা বলা হয়েছে। মক্কার মসজিদুল হারামে প্রবেশকারীদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ রয়েছে সুরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াতে। হযরত ইবরাহিম (আ.)ও মক্কা নগরীকে নিরাপদ ও ফল-ফলাদিতে সমৃদ্ধ করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন (সুরা ইবরাহিম: ৩৫)। এমনকি আখিরাতে জান্নাতিদেরও শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে জান্নাতে প্রবেশের আহ্বান জানানো হবে (সুরা হিজর: ৪৬)।

নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে আল্লাহর প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক। সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে নেয়ামত বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর অকৃতজ্ঞ হলে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই মুমিনদের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সৎকাজের মাধ্যমে কাজে লাগানো। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন যে, স্বাস্থ্য ও অবসর—এই দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় (তিরমিজি: ২৩০৪)। অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে নিজ এলাকায় নিরাপদ, সুস্থ শরীর এবং একদিনের খাদ্যসহ জাগ্রত হয়, সে যেন পুরো দুনিয়াটাই লাভ করল (তিরমিজি: ২৩৪৬)। অতএব, সময় শেষ হওয়ার আগেই আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে সচেষ্ট হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

‘তোমরা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্যে কিছু কর এবং আল্লাহ্কেও ভয় কর। আর জেনে রেখো যে, তোমরা আল্লাহর সম্মুখীন হতে যাচ্ছ আর মুমিনগণকে সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ২২৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের মঙ্গলের জন্যে ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তা তোমরা পাবে আল্লাহর নিকট। তা উৎকৃষ্টতর ও পুরস্কার হিসেবে মহত্তর। আর তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো আল্লাহর নিকট; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল : ২০)।

জনপ্রিয় সংবাদ

কটিয়াদীতে পুকুর থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ঈমান ও নিরাপত্তার ছায়াতলে সুখী জীবন ও সমৃদ্ধ সমাজের রূপরেখা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ইসলাম পৃথিবীতে এসেছে একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত প্রতিষ্ঠা করতে এবং এর ভিত্তিকে মজবুত করতে। একই সঙ্গে আল্লাহর বান্দাদের ওপর তাঁর যে অধিকার রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যে হক রয়েছে এবং মানুষের একে অপরের প্রতি যে অধিকার রয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেই ইসলামের আগমন। একজন মুসলিম যখন আল্লাহর খাঁটি বান্দা হয়ে তাঁর ও রাসুলের আনুগত্য করে, তখন সে সুরা নিসার ৬৯ নম্বর আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহিদ ও সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গী হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।

ইসলামি স্কলারদের মতে, সৎ ব্যক্তি তিনিই যিনি আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হকও যথাযথভাবে আদায় করেন। নামাজের তাশাহহুদে 'আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক' বলে যে দোয়া করা হয়, সৎ ব্যক্তিরা এর অন্তর্ভুক্ত হন। সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, প্রতিবেশী, সঙ্গী, মুসাফির ও দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাকে আলেম সমাজ 'অধিকারগুলোর আয়াত' বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া সুরা আহজাবের ৬ নম্বর আয়াতে নবীকে মুমিনদের নিজের চেয়েও ঘনিষ্ঠতর এবং সুরা তাওবার ১২০ নম্বর আয়াতে রাসুলের জীবনকে নিজেদের জীবনের চেয়ে প্রিয় জ্ঞান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর সুরা আনফালের ১ নম্বর আয়াতে মুমিনদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যকে অপরিহার্য করা হয়েছে।

শান্তি, নিরাপত্তা ও রহমত প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে আসা ইসলাম প্রথম থেকেই মুমিনদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সুরা আনআামের ৮২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম বা শিরক দিয়ে কলুষিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে প্রকৃত নিরাপত্তা ও হেদায়েত। যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান অর্জন করে এবং সব ধরনের শিরক ও গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পক্ষান্তরে, ঈমানে ঘাটতি থাকলে এবং নিজের বা অন্যের ওপর জুলুম করলে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি ও নিরাপত্তা ততটাই বিঘ্নিত হয়। সুরা রাদের ২৮-২৯ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই কেবল চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং সৎকর্মশীলদের জন্য রয়েছে পরম আনন্দ ও শুভ পরিণাম। সুরা নাহলের ৯৭ নম্বর আয়াতে মুমিন পুরুষ ও নারীকে পবিত্র জীবন এবং তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

একটি দেশে যখন পূর্ণ নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সেখানে দ্বীন শক্তিশালী ও সম্মানিত হয়ে ওঠে। নামাজ, জুমা ও জামাত নির্বিঘ্নে আদায় করা যায়। মানুষের জানমাল, ইজ্জত রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুশৃঙ্খল হয়। পথঘাট নিরাপদ হলে শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়, রিজিক সহজলভ্য হয় এবং সমাজে সমৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আল্লাহ এই দ্বীনকে পূর্ণতা দেবেন, যার ফলে একজন আরোহী সানআ থেকে হাদরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করলেও আল্লাহ ও নেকড়ে ছাড়া আর কোনো ভয় থাকবে না (বোখারি: ৩৬১২)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই এই নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছিল। আদি ইবন হাতিম (রা.) সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নিজে একজন নারীকে হিরা থেকে এসে কোনো ভয় ছাড়াই কাবাঘর তাওয়াফ করতে দেখেছেন (বোখারি: ৩৫৯৫)।

ইসলামের প্রতিটি ইবাদত পালনেও নিরাপত্তার গুরুত্ব অপরিসীম। সুরা বাকারার ২৩৮-২৩৯ আয়াতে ভয়ের সময় ইশারায় নামাজ এবং নিরাপদ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জাকাত আদায় এবং হজের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুরা বাকারার ১৯৬ আয়াতে হজের সময় নিরাপদ হওয়ার পর কোরবানি করার কথা বলা হয়েছে। মক্কার মসজিদুল হারামে প্রবেশকারীদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ রয়েছে সুরা আলে ইমরানের ৯৭ নম্বর আয়াতে। হযরত ইবরাহিম (আ.)ও মক্কা নগরীকে নিরাপদ ও ফল-ফলাদিতে সমৃদ্ধ করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন (সুরা ইবরাহিম: ৩৫)। এমনকি আখিরাতে জান্নাতিদেরও শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে জান্নাতে প্রবেশের আহ্বান জানানো হবে (সুরা হিজর: ৪৬)।

নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে আল্লাহর প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক। সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে নেয়ামত বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর অকৃতজ্ঞ হলে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই মুমিনদের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সৎকাজের মাধ্যমে কাজে লাগানো। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন যে, স্বাস্থ্য ও অবসর—এই দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় (তিরমিজি: ২৩০৪)। অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে নিজ এলাকায় নিরাপদ, সুস্থ শরীর এবং একদিনের খাদ্যসহ জাগ্রত হয়, সে যেন পুরো দুনিয়াটাই লাভ করল (তিরমিজি: ২৩৪৬)। অতএব, সময় শেষ হওয়ার আগেই আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে সচেষ্ট হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

‘তোমরা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্যে কিছু কর এবং আল্লাহ্কেও ভয় কর। আর জেনে রেখো যে, তোমরা আল্লাহর সম্মুখীন হতে যাচ্ছ আর মুমিনগণকে সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ২২৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের মঙ্গলের জন্যে ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তা তোমরা পাবে আল্লাহর নিকট। তা উৎকৃষ্টতর ও পুরস্কার হিসেবে মহত্তর। আর তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো আল্লাহর নিকট; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল : ২০)।