লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে যেসব পেশা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ

রিজিক অন্বেষণের প্রয়োজনে মানুষকে বিভিন্ন কাজ ও পেশার সঙ্গে জড়াতে হয়। ইসলাম জীবিকা উপার্জনের বেশির ভাগ পথকে বৈধতা দিয়েছে, তবে এমন কিছু পেশা ও শিল্পকর্ম রয়েছে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। এসব কাজের ফলে ইসলামি সমাজের আকিদা-বিশ্বাস, চারিত্রিক পবিত্রতা ও মান-সম্মানের ঘাটতি দেখা দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, 'তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন। অতএব তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে তোমরা আহার করো। আর পুনরুত্থান তো তাঁরই কাছে।' (সুরা মুলক, আয়াত: ১৫)।

ইসলামে নিষিদ্ধ পাঁচটি প্রধান পেশার মধ্যে অন্যতম হলো সুদের কারবার। আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন। যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন শয়তানের আছরগ্রস্ত ব্যক্তির মতো উঠবে। সুদের কারবার, লেনদেন বা সাক্ষ্য দেওয়া—সবই সমান অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১৭৭)।

মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রস্তুতকরণ, বণ্টন ও সেবন ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) মদের সঙ্গে জড়িত দশ শ্রেণির মানুষকে অভিসম্পাত করেছেন—যাদের মধ্যে মদের উৎপাদনকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, বহনকারী, ভোক্তা ও পরিবেশনকারী সবাই অন্তর্ভুক্ত। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৫)।

পতিতাবৃত্তির পেশা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত ও হারাম। কোনো স্বাধীন নারী বা দাসীর জন্য ব্যভিচারের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জনের সুযোগ নেই। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের দুজন দাসী মুসাইকা ও উমাইমাকে দিয়ে সে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাত। তারা নবীজি (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে আল্লাহতায়ালা সুরা নুরের ৩৩ নম্বর আয়াত নাজিল করেন, যেখানে দাসীদের ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নিকৃষ্ট পেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। প্রয়োজনেও ব্যভিচার কখনোই বৈধ হতে পারে না। (মুসলিম, হাদিস: ৩০২৯)।

যৌন আবেদনময় নৃত্য, অশ্লীল গান ও নগ্ন অভিনয়সহ যাবতীয় অশ্লীল শিল্পকর্ম ইসলামে হারাম। নিষিদ্ধ সম্পর্কের পথ খুলে দেয় এ জাতীয় প্রতিটি কথা, কাজ ও পদক্ষেপ ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এর ধারে-কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩২)।

এছাড়া ইসলামে দেহবিশিষ্ট মূর্তি বা প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে যতক্ষণ না সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারে, যা তার পক্ষে অসম্ভব। তবে প্রাণহীন বস্তু বা গাছপালার ছবি আঁকার অনুমতি রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৫)।

সুদের কারবার: আল্লাহতায়ালা সুদ হারাম করেছেন এবং ব্যবসা হালাল করেছেন। ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করা সুন্নাহ আর সুদের কারবার করে অর্থ উপার্জন করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা তার মতো (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে তারা বলে ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

কটিয়াদীতে পুকুর থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ইসলামে যেসব পেশা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

রিজিক অন্বেষণের প্রয়োজনে মানুষকে বিভিন্ন কাজ ও পেশার সঙ্গে জড়াতে হয়। ইসলাম জীবিকা উপার্জনের বেশির ভাগ পথকে বৈধতা দিয়েছে, তবে এমন কিছু পেশা ও শিল্পকর্ম রয়েছে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। এসব কাজের ফলে ইসলামি সমাজের আকিদা-বিশ্বাস, চারিত্রিক পবিত্রতা ও মান-সম্মানের ঘাটতি দেখা দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, 'তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন। অতএব তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে তোমরা আহার করো। আর পুনরুত্থান তো তাঁরই কাছে।' (সুরা মুলক, আয়াত: ১৫)।

ইসলামে নিষিদ্ধ পাঁচটি প্রধান পেশার মধ্যে অন্যতম হলো সুদের কারবার। আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন। যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন শয়তানের আছরগ্রস্ত ব্যক্তির মতো উঠবে। সুদের কারবার, লেনদেন বা সাক্ষ্য দেওয়া—সবই সমান অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪১৭৭)।

মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রস্তুতকরণ, বণ্টন ও সেবন ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) মদের সঙ্গে জড়িত দশ শ্রেণির মানুষকে অভিসম্পাত করেছেন—যাদের মধ্যে মদের উৎপাদনকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, বহনকারী, ভোক্তা ও পরিবেশনকারী সবাই অন্তর্ভুক্ত। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৫)।

পতিতাবৃত্তির পেশা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত ও হারাম। কোনো স্বাধীন নারী বা দাসীর জন্য ব্যভিচারের মাধ্যমে জীবিকা উপার্জনের সুযোগ নেই। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের দুজন দাসী মুসাইকা ও উমাইমাকে দিয়ে সে জোরপূর্বক বেশ্যাবৃত্তি করাত। তারা নবীজি (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে আল্লাহতায়ালা সুরা নুরের ৩৩ নম্বর আয়াত নাজিল করেন, যেখানে দাসীদের ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নিকৃষ্ট পেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। প্রয়োজনেও ব্যভিচার কখনোই বৈধ হতে পারে না। (মুসলিম, হাদিস: ৩০২৯)।

যৌন আবেদনময় নৃত্য, অশ্লীল গান ও নগ্ন অভিনয়সহ যাবতীয় অশ্লীল শিল্পকর্ম ইসলামে হারাম। নিষিদ্ধ সম্পর্কের পথ খুলে দেয় এ জাতীয় প্রতিটি কথা, কাজ ও পদক্ষেপ ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এর ধারে-কাছে যেতেও নিষেধ করেছেন। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩২)।

এছাড়া ইসলামে দেহবিশিষ্ট মূর্তি বা প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে যতক্ষণ না সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারে, যা তার পক্ষে অসম্ভব। তবে প্রাণহীন বস্তু বা গাছপালার ছবি আঁকার অনুমতি রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৫)।

সুদের কারবার: আল্লাহতায়ালা সুদ হারাম করেছেন এবং ব্যবসা হালাল করেছেন। ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করা সুন্নাহ আর সুদের কারবার করে অর্থ উপার্জন করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা তার মতো (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে তারা বলে ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)