লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন শিক্ষাবর্ষে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান

নতুন শিক্ষাবর্ষকে স্বাগত জানানোর এই মুহূর্তে জ্ঞানার্জনের পরিসরে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণময় সুযোগ। ক্লাসরুম, পাঠচক্র এবং বিভিন্ন জ্ঞানমূলক মঞ্চে সময়কে কাজে লাগিয়ে মর্যাদা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জান্নাতের বাগানের মতো পরিবেশে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তোমরা পরিশ্রম, আন্তরিক নিয়ত, দৃঢ় সংকল্প এবং উঁচু মানসিকতা নিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষকে বরণ করে নাও। কারণ কঠোর পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমেই সফলতা আসে। কবি বলেছেন, যে পরিশ্রম ছাড়া উচ্চ মর্যাদা কামনা করে, সে জীবনের সবটা সময় অপচয় করে অসম্ভবের অন্বেষণে।

আল্লাহতায়ালা জ্ঞানকে তাঁর পূর্ণতার গুণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সবকিছু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, যা সুরা সাবার ৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষকে বুদ্ধি, শোনার জন্য কান, দেখার জন্য চোখ এবং কথা বলার জন্য জিহ্বা দিয়ে তিনি সম্মানিত করেছেন। সুরা আলাকের ১-৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কলমের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন। জ্ঞানই মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে, যেমনটি আদম (আ.)-এর ঘটনায় সুরা বাকারার ৩০-৩৩ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

জ্ঞান হলো সবচেয়ে বড় নিয়ামত, যা কোনো জাতিকে উন্নত করে এবং বিজয় এনে দেয়। এটি সর্বোত্তম ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। কোরআনের সুরা তহার ১১৪ নম্বর আয়াতে নবী (সা.)-কে জ্ঞানের বৃদ্ধির দোয়া করতে বলা হয়েছে। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, এটি জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। এছাড়া সুরা ফাতির ২৮ নম্বর আয়াতে আলেমদের মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহকে ভয় করেন। আলেমদের সাক্ষ্যকে আল্লাহ নিজের ও ফেরেশতাদের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, যা সুরা আলে ইমরানের ১৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এছাড়া সুরা জুমারের ৯ নম্বর আয়াতে জ্ঞানী ও অজ্ঞদের পার্থক্য এবং সুরা নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন (বোখারি : ৭১)। এছাড়া জ্ঞান অর্জনের পথে বের হওয়া ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ জান্নাতের পথ সহজ করে দেন (মুসলিম : ৬৭৪৬)। অতীত মনীষীরা জ্ঞানের জন্য জন্মভূমি ত্যাগসহ নানাবিধ কষ্ট সহ্য করেছেন। সুরা তওবার ১২২ নম্বর আয়াতে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানানুশীলনের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সময়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ জ্ঞান অর্জনের জন্য বরাদ্দ রাখা। জ্ঞান হলো দুনিয়ার পাথেয় এবং আখেরাতের মর্যাদার উপায়।

জ্ঞান হৃদয়ের জীবন, দৃষ্টিশক্তির আলো, বুকের রোগের ওষুধ এবং নিঃসঙ্গতায় আপনজন। জ্ঞানালোচনা ইবাদত, অনুসন্ধান জিহাদ এবং বিতরণ করা দান। বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম সহজ হওয়ায় পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই আজ চেষ্টা করো, যাতে আগামীতে ফল পেতে পারো। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা আগে নিজে শিখুন, তারপর তা শেখান এবং ছাত্রদের সামনে উত্তম আদর্শ হোন। শিক্ষা একটি মহা আমানত, তাই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন না। আপনাদের একটি সৎ কথা বা আন্তরিক শিক্ষা একটি পুরো জীবন বা জাতিকে বদলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা

নতুন শিক্ষাবর্ষে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:২৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষকে স্বাগত জানানোর এই মুহূর্তে জ্ঞানার্জনের পরিসরে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণময় সুযোগ। ক্লাসরুম, পাঠচক্র এবং বিভিন্ন জ্ঞানমূলক মঞ্চে সময়কে কাজে লাগিয়ে মর্যাদা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জান্নাতের বাগানের মতো পরিবেশে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তোমরা পরিশ্রম, আন্তরিক নিয়ত, দৃঢ় সংকল্প এবং উঁচু মানসিকতা নিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষকে বরণ করে নাও। কারণ কঠোর পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমেই সফলতা আসে। কবি বলেছেন, যে পরিশ্রম ছাড়া উচ্চ মর্যাদা কামনা করে, সে জীবনের সবটা সময় অপচয় করে অসম্ভবের অন্বেষণে।

আল্লাহতায়ালা জ্ঞানকে তাঁর পূর্ণতার গুণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি সবকিছু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, যা সুরা সাবার ৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষকে বুদ্ধি, শোনার জন্য কান, দেখার জন্য চোখ এবং কথা বলার জন্য জিহ্বা দিয়ে তিনি সম্মানিত করেছেন। সুরা আলাকের ১-৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ কলমের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন। জ্ঞানই মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে, যেমনটি আদম (আ.)-এর ঘটনায় সুরা বাকারার ৩০-৩৩ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

জ্ঞান হলো সবচেয়ে বড় নিয়ামত, যা কোনো জাতিকে উন্নত করে এবং বিজয় এনে দেয়। এটি সর্বোত্তম ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। কোরআনের সুরা তহার ১১৪ নম্বর আয়াতে নবী (সা.)-কে জ্ঞানের বৃদ্ধির দোয়া করতে বলা হয়েছে। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, এটি জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। এছাড়া সুরা ফাতির ২৮ নম্বর আয়াতে আলেমদের মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহকে ভয় করেন। আলেমদের সাক্ষ্যকে আল্লাহ নিজের ও ফেরেশতাদের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, যা সুরা আলে ইমরানের ১৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এছাড়া সুরা জুমারের ৯ নম্বর আয়াতে জ্ঞানী ও অজ্ঞদের পার্থক্য এবং সুরা নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন (বোখারি : ৭১)। এছাড়া জ্ঞান অর্জনের পথে বের হওয়া ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ জান্নাতের পথ সহজ করে দেন (মুসলিম : ৬৭৪৬)। অতীত মনীষীরা জ্ঞানের জন্য জন্মভূমি ত্যাগসহ নানাবিধ কষ্ট সহ্য করেছেন। সুরা তওবার ১২২ নম্বর আয়াতে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানানুশীলনের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সময়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ জ্ঞান অর্জনের জন্য বরাদ্দ রাখা। জ্ঞান হলো দুনিয়ার পাথেয় এবং আখেরাতের মর্যাদার উপায়।

জ্ঞান হৃদয়ের জীবন, দৃষ্টিশক্তির আলো, বুকের রোগের ওষুধ এবং নিঃসঙ্গতায় আপনজন। জ্ঞানালোচনা ইবাদত, অনুসন্ধান জিহাদ এবং বিতরণ করা দান। বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম সহজ হওয়ায় পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তাই আজ চেষ্টা করো, যাতে আগামীতে ফল পেতে পারো। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা আগে নিজে শিখুন, তারপর তা শেখান এবং ছাত্রদের সামনে উত্তম আদর্শ হোন। শিক্ষা একটি মহা আমানত, তাই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন না। আপনাদের একটি সৎ কথা বা আন্তরিক শিক্ষা একটি পুরো জীবন বা জাতিকে বদলে দিতে পারে।