লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস

আজ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হয়েছিলেন তিনি। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ জরুরি বিধিমালার আওতায় যৌথবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে, যখন তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়ার নামে তারেক রহমানের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। সে সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও দেশ ছাড়েন।

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর থেকেই তারেক রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তাকে কেবল রাজনীতি থেকেই নয়, বরং দুনিয়া থেকেও সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার দেশ-বিদেশে অনুসন্ধান চালিয়েও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রায় ৮৩টি মামলা করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব মামলার নিষ্পত্তি হয়। দলটির মতে, এই নিষ্পত্তি প্রমাণ করে যে মামলাগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ প্রবাসে কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’

দিবসটি উপলক্ষে গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, তারেক রহমানকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল, যার স্মৃতিচিহ্ন তিনি এখনো বহন করছেন। তবে তারেক রহমান নিজে সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে রাখতে চান না। রুমন আরও বলেন, "আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই, তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।" দেশের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে সবাইকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের জন্য জরুরি মহার্ঘ ভাতা চালুর দাবি সাইফুল হকের

আজ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হয়েছিলেন তিনি। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ জরুরি বিধিমালার আওতায় যৌথবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে, যখন তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়ার নামে তারেক রহমানের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। সে সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও দেশ ছাড়েন।

তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর থেকেই তারেক রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তাকে কেবল রাজনীতি থেকেই নয়, বরং দুনিয়া থেকেও সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার দেশ-বিদেশে অনুসন্ধান চালিয়েও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রায় ৮৩টি মামলা করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব মামলার নিষ্পত্তি হয়। দলটির মতে, এই নিষ্পত্তি প্রমাণ করে যে মামলাগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ প্রবাসে কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’

দিবসটি উপলক্ষে গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, তারেক রহমানকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল, যার স্মৃতিচিহ্ন তিনি এখনো বহন করছেন। তবে তারেক রহমান নিজে সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে রাখতে চান না। রুমন আরও বলেন, "আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই, তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।" দেশের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে সবাইকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।