লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা সম্পূর্ণভাবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা অভিযানের লক্ষ্য থাকলেও, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনা এক-দুই দিন, এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সবকিছুই নির্ভর করছে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা অব্যাহত রাখার ওপর। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানকে এমনভাবে জবাব দেওয়া হবে যাতে তারা বুঝতে পারে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়েছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা হয়েছে। টানা তিন দিন ধরে এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে এবং এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের শর্তেই উন্মুক্ত হবে। তিনি এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ইরান মার্কিন হুমকিতে নয়, বরং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রণালি পরিচালনা করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপকূলের দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করে তেহরানের অনুমতি ছাড়াই জাহাজ চলাচল করিয়ে সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।

তবে হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শত শত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, বর্তমান সংঘাতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি হবে না। এছাড়া ইরানের কট্টরপন্থী অংশ বর্তমান সমঝোতায় কোনো সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাতের স্থায়িত্ব এবং তীব্রতা সম্পূর্ণভাবে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা অভিযানের লক্ষ্য থাকলেও, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনা এক-দুই দিন, এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সবকিছুই নির্ভর করছে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা অব্যাহত রাখার ওপর। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানকে এমনভাবে জবাব দেওয়া হবে যাতে তারা বুঝতে পারে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়েছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের অভ্যন্তরে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা হয়েছে। টানা তিন দিন ধরে এই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে এবং এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের শর্তেই উন্মুক্ত হবে। তিনি এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ইরান মার্কিন হুমকিতে নয়, বরং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রণালি পরিচালনা করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপকূলের দক্ষিণ দিকের রুট ব্যবহার করে তেহরানের অনুমতি ছাড়াই জাহাজ চলাচল করিয়ে সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।

তবে হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শত শত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাদের ধারণা, বর্তমান সংঘাতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি হবে না। এছাড়া ইরানের কট্টরপন্থী অংশ বর্তমান সমঝোতায় কোনো সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তার কঠোর জবাব দেবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।