লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্থগিত, প্রতিশ্রুতিও স্থগিত

মার্কিন বাহিনীর অব্যাহত হামলার মুখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (MoU) ইরানের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন এবং ইরানের দেশ রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন।

ইরানের ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গরিবাবাদি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির পরিকাঠামোতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সবগুলোই লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে। তারা অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে আর ইরান দেশ রক্ষার কাজে ব্যস্ত আছে। তাই তেহরানও তাদের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে।”

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছিলেন এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে বলে সতর্ক করছিলেন। কিন্তু এবার কারিগরি আলোচক দলের প্রধান গরিবাবাদি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত সব প্রতিশ্রুতিই লঙ্ঘন করেছে এবং সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, “আর তাই আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি আর আমরা সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবো না।”

এই ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান প্রথমবারের মতো জানালো যে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ হয়ে গেছে’ এবং তারা এর কোনো ধারাই আর বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এই যুদ্ধ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একইসঙ্গে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিও কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়।

প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এরপর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন দুপক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং এই সময়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিক বৈঠকের কথা ছিল। তবে, তার আগেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুপক্ষ ফের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং তাতে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এখন তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিও কার্যত ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্থগিত, প্রতিশ্রুতিও স্থগিত

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মার্কিন বাহিনীর অব্যাহত হামলার মুখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (MoU) ইরানের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন এবং ইরানের দেশ রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন।

ইরানের ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গরিবাবাদি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির পরিকাঠামোতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সবগুলোই লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে। তারা অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে আর ইরান দেশ রক্ষার কাজে ব্যস্ত আছে। তাই তেহরানও তাদের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে।”

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছিলেন এবং আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে বলে সতর্ক করছিলেন। কিন্তু এবার কারিগরি আলোচক দলের প্রধান গরিবাবাদি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত সব প্রতিশ্রুতিই লঙ্ঘন করেছে এবং সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, “আর তাই আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি আর আমরা সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবো না।”

এই ঘোষণার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান প্রথমবারের মতো জানালো যে সমঝোতা স্মারক ‘শেষ হয়ে গেছে’ এবং তারা এর কোনো ধারাই আর বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এই যুদ্ধ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একইসঙ্গে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিও কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়।

প্রায় ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এরপর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন দুপক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং এই সময়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিক বৈঠকের কথা ছিল। তবে, তার আগেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুপক্ষ ফের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং তাতে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এখন তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিও কার্যত ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।