লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাঙ্কফুড: স্বাদের মোহে বিষের থাবা ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপনার প্রিয় খাবার কী? এই প্রশ্নের উত্তরে ৮০ শতাংশ মানুষ ফুচকা, ঝালমুড়ি, চানাচুর, বার্গার, পিৎজা বা পাস্তার নাম বলে থাকেন। কিন্তু কেউ কি কখনো বলেন যে তার পছন্দের খাবার বিষ? অথচ বেঁচে থাকার জন্য যারা বিষ পান করতে চান না, তারাই আবার জাঙ্কফুড নামের বিষ প্রতিদিন অল্প অল্প করে গ্রহণ করছেন। বিষ খেলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, কিন্তু জাঙ্কফুড আমাদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), গ্লোবাল নিউট্রিশন, আইইডিসিআর (IEDCR) ও আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B)-এর বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি হাজারে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বা ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে জাঙ্কফুড গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বা কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। এসব খাবার এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন দেখেই যে কেউ আকৃষ্ট হয়, আর তাই শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জাঙ্কফুড বলতে মূলত সেই খাবারগুলোকে বোঝায়, যা খেতে অত্যন্ত মজাদার হলেও কোনো পুষ্টিগুণ নেই এবং যাতে লবণ, চিনি ও চর্বির পরিমাণ থাকে মাত্রাতিরিক্ত।

জাঙ্কফুড গ্রহণের ফলে শরীরের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি কোনো পুষ্টি যোগায় না, বরং ওজন বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত ওজনের ফলে শরীরে শক্তি থাকে না, উল্টো ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া এসব খাবারে ফাইবার না থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাট মস্তিষ্কের নিউরো-সিগন্যালিং কমিয়ে দেয়, যার ফলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।

দীর্ঘমেয়াদে এসব খাবার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে ত্বকে ব্রনসহ বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত মশলা সরাসরি কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে। জাঙ্কফুড খেয়ে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও এটি ব্রেইনের দীর্ঘমেয়াদী ডোপামিন কমিয়ে দেয়, ফলে মানুষ ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে চলে যেতে পারে। ল্যানসেট জার্নালের ২০১৯ সালের একটি গ্লোবাল ডায়েট সম্পর্কিত গবেষণায় বলা হয়েছে, নিম্নমানের খাবারের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ মারা যায়, যা ধূমপানের চেয়েও বেশি। সাময়িক স্বাদের মোহে মানুষ নিজের স্বাস্থ্যকে কতটা বড় ঝুঁকির মুখে ফেলছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে সীমান্ত থেকে বাংলাদেশী বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় এক যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

জাঙ্কফুড: স্বাদের মোহে বিষের থাবা ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

আপনার প্রিয় খাবার কী? এই প্রশ্নের উত্তরে ৮০ শতাংশ মানুষ ফুচকা, ঝালমুড়ি, চানাচুর, বার্গার, পিৎজা বা পাস্তার নাম বলে থাকেন। কিন্তু কেউ কি কখনো বলেন যে তার পছন্দের খাবার বিষ? অথচ বেঁচে থাকার জন্য যারা বিষ পান করতে চান না, তারাই আবার জাঙ্কফুড নামের বিষ প্রতিদিন অল্প অল্প করে গ্রহণ করছেন। বিষ খেলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, কিন্তু জাঙ্কফুড আমাদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), গ্লোবাল নিউট্রিশন, আইইডিসিআর (IEDCR) ও আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B)-এর বিভিন্ন গবেষণা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি হাজারে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বা ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে জাঙ্কফুড গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বা কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। এসব খাবার এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন দেখেই যে কেউ আকৃষ্ট হয়, আর তাই শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জাঙ্কফুড বলতে মূলত সেই খাবারগুলোকে বোঝায়, যা খেতে অত্যন্ত মজাদার হলেও কোনো পুষ্টিগুণ নেই এবং যাতে লবণ, চিনি ও চর্বির পরিমাণ থাকে মাত্রাতিরিক্ত।

জাঙ্কফুড গ্রহণের ফলে শরীরের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি কোনো পুষ্টি যোগায় না, বরং ওজন বাড়িয়ে দেয়। এই অতিরিক্ত ওজনের ফলে শরীরে শক্তি থাকে না, উল্টো ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া এসব খাবারে ফাইবার না থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত চিনি ও ফ্যাট মস্তিষ্কের নিউরো-সিগন্যালিং কমিয়ে দেয়, যার ফলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।

দীর্ঘমেয়াদে এসব খাবার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে ত্বকে ব্রনসহ বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত মশলা সরাসরি কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে। জাঙ্কফুড খেয়ে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও এটি ব্রেইনের দীর্ঘমেয়াদী ডোপামিন কমিয়ে দেয়, ফলে মানুষ ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে চলে যেতে পারে। ল্যানসেট জার্নালের ২০১৯ সালের একটি গ্লোবাল ডায়েট সম্পর্কিত গবেষণায় বলা হয়েছে, নিম্নমানের খাবারের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ মারা যায়, যা ধূমপানের চেয়েও বেশি। সাময়িক স্বাদের মোহে মানুষ নিজের স্বাস্থ্যকে কতটা বড় ঝুঁকির মুখে ফেলছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।