লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, কার্যালয় ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয়রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ সম্পর্কে এমপি আমির হামজা একটি বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে আজ বিকেলে ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আমির হামজা তাঁর গাড়িতে করে ওই মোড় পার হয়ে পাশেই তাঁর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়ি ছিল। সমাবেশ থেকে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা এমপিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে তাঁর বাড়ির দিকে নিয়ে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং ইটের আঘাতে আমির হামজার গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়।

এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়। পরে তাঁরা হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে গিয়ে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়েও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করে বলেন, গণ অধিকার পরিষদের লোকজন এই আক্রমণ করেছে এবং তাঁদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদলও যোগ দিয়েছে। তিনি জানান, এমপি সাহেব অক্ষত আছেন এবং নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা মামলা করবেন। এমপির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন বলেন, ওসির উপস্থিতিতেই হত্যার উদ্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং ইটের আঘাতে তাঁর নিজের পায়েও জখম হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ফেসবুকে লিখেছেন, আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে গণ অধিকার পরিষদকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন করছিলেন। এরপর মিছিল বের করলে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়, যাতে তাঁদের ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। দলটির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদও অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের ছেলেরা মূলত দুই পক্ষকে সরিয়ে দিতে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গণ অধিকারের বিষয়টি তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

কুষ্টিয়া Model থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল এবং এরই মধ্যে হঠাৎ ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এমপি তাঁর বাড়িতে আছেন।

ওই সময় ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মীকে লাঠিসোঁটা বের হতে দেখা যায়।আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একটা অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ানে সামরিক আগ্রাসন কি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার অবসান ঘটাবে?

কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, কার্যালয় ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয়রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ সম্পর্কে এমপি আমির হামজা একটি বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে আজ বিকেলে ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আমির হামজা তাঁর গাড়িতে করে ওই মোড় পার হয়ে পাশেই তাঁর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশ ও র‌্যাবের গাড়ি ছিল। সমাবেশ থেকে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা এমপিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে তাঁর বাড়ির দিকে নিয়ে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং ইটের আঘাতে আমির হামজার গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়।

এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালায়। পরে তাঁরা হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে গিয়ে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়েও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করে বলেন, গণ অধিকার পরিষদের লোকজন এই আক্রমণ করেছে এবং তাঁদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদলও যোগ দিয়েছে। তিনি জানান, এমপি সাহেব অক্ষত আছেন এবং নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা মামলা করবেন। এমপির মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন বলেন, ওসির উপস্থিতিতেই হত্যার উদ্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং ইটের আঘাতে তাঁর নিজের পায়েও জখম হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ফেসবুকে লিখেছেন, আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে গণ অধিকার পরিষদকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় নেতা-কর্মীরা মানববন্ধন করছিলেন। এরপর মিছিল বের করলে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়, যাতে তাঁদের ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হন। দলটির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদও অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় আমির হামজার সমর্থকেরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের ছেলেরা মূলত দুই পক্ষকে সরিয়ে দিতে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গণ অধিকারের বিষয়টি তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

কুষ্টিয়া Model থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল এবং এরই মধ্যে হঠাৎ ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এমপি তাঁর বাড়িতে আছেন।

ওই সময় ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মীকে লাঠিসোঁটা বের হতে দেখা যায়।আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একটা অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম।