লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজেদের চেনার পাশাপাশি জীবন উপভোগে বিশ্বাসী লামিন ইয়ামাল

মাঠের ভেতর যেমন প্রতিপক্ষকে একা সামলানোর ক্ষমতা রাখেন, মাঠের বাইরেও লামিন ইয়ামালের আত্মবিশ্বাস ঠিক ততটাই স্পষ্ট। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের শেকড় বিষুবীয় গিনি ও মরক্কোতে হলেও, বার্সেলোনার রোকাফোন্ডা এলাকায় বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। নিজের সম্পর্কে তার স্পষ্ট ভাষ্য, তিনি নিজেকে অনেকের চেয়ে অনেক ভালো চেনেন। সমালোচকদের ‘অহংকারী’ তকমাকে তিনি পাত্তা দেন না, বরং তা উপভোগই করেন।

স্পেন দলের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা ইয়ামাল স্বীকার করেছেন, শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে পুরো ম্যাচ খেলার মতো পর্যায়ে তিনি এখনো পুরোপুরি পৌঁছাননি। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০১৪ সালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, জেমস রোদ্রিগেজের সেই বিখ্যাত গোলটি দেখার মুহূর্তটি তার জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ স্মৃতি। তার মা-বাবার ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে ইয়ামাল বলেন, টাকা না থাকলে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল, যা তার বাবা-মা অসম্ভব শ্রম দিয়ে সম্ভব করেছেন।

বিলাসিতাপূর্ণ জীবন এবং সাধারণ জীবনের ভারসাম্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ পরিণত। তিনি মনে করেন, জীবন উপভোগ করার জন্য এবং সন্তানদের জন্য কিছু রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেই তাকে এগোতে হবে। ছোটবেলায় যা পাননি, তা এখন অর্জন করেছেন এবং নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ছোট বয়সে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে বলেই আজকের এই অভিজ্ঞ ড্রেসিংরুমে তিনি নিজেকে শিশু নয়, বরং সমকক্ষ মনে করেন।

জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণ মানুষের মতো ফুটপাতে বসে কফি খাওয়া বা সিনেমা দেখার স্বাধীনতা হারিয়েছেন বলে আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে। ১৩ বছর বয়স থেকেই পরিচিতি বাড়তে শুরু করায় এখন আমেরিকায় ভ্রমণের সময়টুকু তিনি মুক্তভাবে উপভোগ করেন। তার খেলার ধরনের বিষয়ে ইয়ামাল জানান, এটি মূলত রাস্তা ও একাডেমির ফুটবলের এক দারুণ মিশ্রণ। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলাররা চার বছর বয়স থেকেই যে কাঠামোগত নিয়মে বড় হয়, তার চেয়ে রাস্তায় খেলার সেই স্বতঃস্ফূর্ততা ও চালাকি তিনি বেশি পছন্দ করেন।

ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, মাঠে নামার আগেই তিনি জানেন যে প্রতিপক্ষের অন্তত তিনজন খেলোয়াড় তাকে মার্ক করবে। তাই ড্রিবলিংয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা করা অসম্ভব, এটি মূলত স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। মেসিকে নিজের আদর্শ মানলেও, তার মতো ৪০ বছর পর্যন্ত খেলার সম্ভাবনাকে ইয়ামাল অসম্ভব বলেই মনে করেন। তবে উইংয়ের পরিবর্তে ভবিষ্যতে মাঝমাঠে খেলার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এই তরুণ তারকা, কারণ সেখানে প্রতিপক্ষের চাপ কিছুটা কম থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গত সাত মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

নিজেদের চেনার পাশাপাশি জীবন উপভোগে বিশ্বাসী লামিন ইয়ামাল

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

মাঠের ভেতর যেমন প্রতিপক্ষকে একা সামলানোর ক্ষমতা রাখেন, মাঠের বাইরেও লামিন ইয়ামালের আত্মবিশ্বাস ঠিক ততটাই স্পষ্ট। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের শেকড় বিষুবীয় গিনি ও মরক্কোতে হলেও, বার্সেলোনার রোকাফোন্ডা এলাকায় বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। নিজের সম্পর্কে তার স্পষ্ট ভাষ্য, তিনি নিজেকে অনেকের চেয়ে অনেক ভালো চেনেন। সমালোচকদের ‘অহংকারী’ তকমাকে তিনি পাত্তা দেন না, বরং তা উপভোগই করেন।

স্পেন দলের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা ইয়ামাল স্বীকার করেছেন, শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে পুরো ম্যাচ খেলার মতো পর্যায়ে তিনি এখনো পুরোপুরি পৌঁছাননি। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ২০১৪ সালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, জেমস রোদ্রিগেজের সেই বিখ্যাত গোলটি দেখার মুহূর্তটি তার জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ স্মৃতি। তার মা-বাবার ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে ইয়ামাল বলেন, টাকা না থাকলে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল, যা তার বাবা-মা অসম্ভব শ্রম দিয়ে সম্ভব করেছেন।

বিলাসিতাপূর্ণ জীবন এবং সাধারণ জীবনের ভারসাম্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ পরিণত। তিনি মনে করেন, জীবন উপভোগ করার জন্য এবং সন্তানদের জন্য কিছু রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেই তাকে এগোতে হবে। ছোটবেলায় যা পাননি, তা এখন অর্জন করেছেন এবং নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ছোট বয়সে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে বলেই আজকের এই অভিজ্ঞ ড্রেসিংরুমে তিনি নিজেকে শিশু নয়, বরং সমকক্ষ মনে করেন।

জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণ মানুষের মতো ফুটপাতে বসে কফি খাওয়া বা সিনেমা দেখার স্বাধীনতা হারিয়েছেন বলে আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে। ১৩ বছর বয়স থেকেই পরিচিতি বাড়তে শুরু করায় এখন আমেরিকায় ভ্রমণের সময়টুকু তিনি মুক্তভাবে উপভোগ করেন। তার খেলার ধরনের বিষয়ে ইয়ামাল জানান, এটি মূলত রাস্তা ও একাডেমির ফুটবলের এক দারুণ মিশ্রণ। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলাররা চার বছর বয়স থেকেই যে কাঠামোগত নিয়মে বড় হয়, তার চেয়ে রাস্তায় খেলার সেই স্বতঃস্ফূর্ততা ও চালাকি তিনি বেশি পছন্দ করেন।

ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, মাঠে নামার আগেই তিনি জানেন যে প্রতিপক্ষের অন্তত তিনজন খেলোয়াড় তাকে মার্ক করবে। তাই ড্রিবলিংয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা করা অসম্ভব, এটি মূলত স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। মেসিকে নিজের আদর্শ মানলেও, তার মতো ৪০ বছর পর্যন্ত খেলার সম্ভাবনাকে ইয়ামাল অসম্ভব বলেই মনে করেন। তবে উইংয়ের পরিবর্তে ভবিষ্যতে মাঝমাঠে খেলার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এই তরুণ তারকা, কারণ সেখানে প্রতিপক্ষের চাপ কিছুটা কম থাকে।