লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল মালয়েশিয়া

ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভিত্তি করে মালয়েশিয়া তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও মালয়েশিয়া সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মালয়েশিয়ায় ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামক একটি ডিজিটাল নোম্যাড কমিউনিটির কার্যক্রমকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসন এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা। সম্প্রতি এই কর্মসূচিতে ইসরায়েলি নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মালয়েশিয়া সরকার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অংশগ্রহণকারীদের ভ্রমণ নথিপত্র বৈধ পাওয়া গেলেও সরকার মঙ্গলবার নেটওয়ার্ক স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করে এক ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি ইসরায়েলের নাগরিক। এরপরই মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকোবকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রদূত মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন নীতির অংশ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের আটজন কংগ্রেস সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে চিঠি পাঠিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়া ইসরায়েলি নাগরিকদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা ওয়াশিংটনের প্রতি মালয়েশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে মালয়েশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইএমইটি) কর্মসূচির অর্থায়ন স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই হুমকির জবাবে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতার নীতিতে মালয়েশিয়া অটল থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকোব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি নতুন নয়; এটি বহুদিন ধরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও অভিবাসন নীতির অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল মালয়েশিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভিত্তি করে মালয়েশিয়া তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও মালয়েশিয়া সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মালয়েশিয়ায় ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামক একটি ডিজিটাল নোম্যাড কমিউনিটির কার্যক্রমকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসন এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা। সম্প্রতি এই কর্মসূচিতে ইসরায়েলি নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মালয়েশিয়া সরকার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অংশগ্রহণকারীদের ভ্রমণ নথিপত্র বৈধ পাওয়া গেলেও সরকার মঙ্গলবার নেটওয়ার্ক স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করে এক ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি ইসরায়েলের নাগরিক। এরপরই মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকোবকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রদূত মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র ও অভিবাসন নীতির অংশ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের আটজন কংগ্রেস সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে চিঠি পাঠিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়া ইসরায়েলি নাগরিকদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা ওয়াশিংটনের প্রতি মালয়েশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে মালয়েশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইএমইটি) কর্মসূচির অর্থায়ন স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই হুমকির জবাবে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতার নীতিতে মালয়েশিয়া অটল থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকোব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি নতুন নয়; এটি বহুদিন ধরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও অভিবাসন নীতির অংশ।