লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের চড়া দামে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে নিম্নবিত্তের পরিবার

বাজারে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। সংসার চালানোর তাগিদে তারা বাধ্য হয়েই প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে পুষ্টিকর উপাদানগুলো বাদ দিচ্ছেন। মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো প্রয়োজনীয় আমিষ এখন সাধারণ মানুষের পাতে প্রায় বিরল। পেট ভরানোর জন্য তারা কমদামি খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে পরিবারগুলোতে নীরবে বাড়ছে অপুষ্টির সংকট। একটি তিন সদস্যের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে মাসে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকার প্রয়োজন হলেও, আয়ের সিংহভাগই বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশের বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার। অপুষ্টিজনিত কারণে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং ৩ শতাংশ শিশু জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে মারা যাচ্ছে। এছাড়া ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার শিশু খর্বকায় এবং ১১ শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা গ্রামীণ ও শহরতলির নারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে, যা গর্ভজাত শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

বাজারে নিত্যপণ্যের বর্তমান মূল্যের একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন সদস্যের একটি পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তিনটি ডিমের জন্য খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ১০০-১৫০ গ্রাম ছোট মাছ, ব্রয়লার মুরগি অথবা মসুর ডাল ও ছোলার ডালের জন্য ব্যয় হয় ৪০ থেকে ৮০ টাকা। ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে আধা কেজি আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে বা পটোল কিনতে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। ১ আঁটি লালশাক বা কলমি শাক কিনতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা। এছাড়া ৩টি কলা বা পেয়ারা এবং লেবুর জন্য খরচ ২০ থেকে ২৫ টাকা। শর্করা ও চর্বির চাহিদা পূরণে দৈনিক চাল বা আটার জন্য ৬৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং তেল, লবণ ও পেঁয়াজের পেছনে ৪৫ থেকে ৬৫ টাকা খরচ হয়। কেবল দেশীয় ফলের চাহিদা মেটাতেই মাসে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা প্রয়োজন হয়।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা শারমিন আক্তার ও ফয়সাল হোসেন দম্পতি গার্মেন্টসে কাজ করে ওভারটাইমসহ ৩০ হাজার টাকার কিছু বেশি আয় করেন। বাসাভাড়া, বিল ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। একইভাবে মিরপুর-১ এর রাজ্জাক হোসেন ২০ হাজার টাকা আয়ের অর্ধেকই বাড়িতে পাঠান, বাকি টাকায় নিজের খরচ মেটাতে গিয়ে ভালো কিছু খাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন। সাভারের গার্মেন্টকর্মী মেহেদী হাসানের আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনে চলে যায়, ফলে ভালো খাবার তার কাছে বিলাসিতা। রিকশাচালক সবুজ মিয়া ও গৃহকর্মী নূর নাহার দম্পতি ২৫ হাজার টাকা আয়ের সংসারে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোমিনুর রহমান জানান, আর্থিক সংকটের কারণে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তিনি নিত্যপণ্যের দাম ও বাসাভাড়ার লাগাম টানার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি সচেতনতার অভাব ও খাদ্যে ভেজালও অপুষ্টির জন্য দায়ী। তিনি মনে করেন, কম দামের পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

মিরপুর-১ এলাকায় একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেন রাজ্জাক হোসেন (৩০)। সেখানেই একটি বাসায় ব্যাচেলর ভাড়া থাকেন। স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন। সবকিছু মিলে মাসে ২০ হাজার টাকার মতো আয় করেন রাজ্জাক। প্রতি মাসে বাড়িতে ১০ হাজার টাকা পাঠান। বয়স্ক বাবা-মায়ের ওষুধের খরচসহ ৪ জনের পুরো পরিবারের খরচ চলে সেই টাকায়। নিজের জন্য থাকে ১০ হাজার টাকা। সেই টাকার মধ্যে রুম ভাড়া চলে যায় ২৫০০ টাকা, বুয়ার বিল ৬০০ টাকা, অন্যান্য বিল ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর খাওয়ায় মাসে খরচ যায় ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। সামান্য টাকা থাকে দৈনন্দিন খরচে। এ অবস্থায় ভালো কিছু কিনে খাওয়ার সামর্থ্য হয় না রাজ্জাকের।

২২ বছরের যুবক মেহেদী হাসান। সাভারের একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। ওভারটাইম সহ মাসে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় করেন। এর মধ্যে বাড়িতে মা-বাবাকে পাঠান ৫ হাজার টাকা। বাকি ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায় পুরো মাস চলতে হয় তাকে। যার মধ্যে বাসাভাড়া ২৫০০ টাকা, বুয়ার বিল ৫০০ টাকা, খাওয়া ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, অন্যান্য খরচ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। সব খরচ মিলে তার কাছে মাসে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা বাড়তি থাকে। এ অবস্থায় অসুস্থ হলে ধার করতে হয়। মেহেদী মানবজমিনকে বলেন, আয়ের বড় একটা অংশ বাসাভাড়া, এটা ওটা কিনতে চলে যায়। সীমিত একটা অংশ খাওয়ার পেছনে যায়। এ অবস্থায় ভালো কিছু খাওয়া আমাদের জন্য বিলাসিতা।গৃহকর্মী নূর নাহার বেগম। ছয় সদস্যের পরিবারে তিন সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ি রয়েছেন। নাহার মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। স্বামী রিকশাচালক সবুজ মিয়া আয় করেন ১৫ হাজার টাকা। নূর নাহার মানবজমিনকে বলেন, এই ২৫ হাজার টাকায় আগে সংসার চললেও এখন কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। বাসাভাড়া, অন্যান্য খরচ মেটাতে সব টাকা শেষ হয়। পুষ্টিকর খাবার কিনবো কীভাবে?

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরীপুরে শতবর্ষী আর কে স্কুল ভবন রক্ষায় মতবিনিময় সভা

নিত্যপণ্যের চড়া দামে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে নিম্নবিত্তের পরিবার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাজারে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। সংসার চালানোর তাগিদে তারা বাধ্য হয়েই প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে পুষ্টিকর উপাদানগুলো বাদ দিচ্ছেন। মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো প্রয়োজনীয় আমিষ এখন সাধারণ মানুষের পাতে প্রায় বিরল। পেট ভরানোর জন্য তারা কমদামি খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে পরিবারগুলোতে নীরবে বাড়ছে অপুষ্টির সংকট। একটি তিন সদস্যের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে মাসে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকার প্রয়োজন হলেও, আয়ের সিংহভাগই বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশের বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার। অপুষ্টিজনিত কারণে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং ৩ শতাংশ শিশু জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে মারা যাচ্ছে। এছাড়া ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার শিশু খর্বকায় এবং ১১ শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা গ্রামীণ ও শহরতলির নারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে, যা গর্ভজাত শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

বাজারে নিত্যপণ্যের বর্তমান মূল্যের একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন সদস্যের একটি পরিবারের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তিনটি ডিমের জন্য খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ১০০-১৫০ গ্রাম ছোট মাছ, ব্রয়লার মুরগি অথবা মসুর ডাল ও ছোলার ডালের জন্য ব্যয় হয় ৪০ থেকে ৮০ টাকা। ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে আধা কেজি আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে বা পটোল কিনতে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। ১ আঁটি লালশাক বা কলমি শাক কিনতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা। এছাড়া ৩টি কলা বা পেয়ারা এবং লেবুর জন্য খরচ ২০ থেকে ২৫ টাকা। শর্করা ও চর্বির চাহিদা পূরণে দৈনিক চাল বা আটার জন্য ৬৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং তেল, লবণ ও পেঁয়াজের পেছনে ৪৫ থেকে ৬৫ টাকা খরচ হয়। কেবল দেশীয় ফলের চাহিদা মেটাতেই মাসে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা প্রয়োজন হয়।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা শারমিন আক্তার ও ফয়সাল হোসেন দম্পতি গার্মেন্টসে কাজ করে ওভারটাইমসহ ৩০ হাজার টাকার কিছু বেশি আয় করেন। বাসাভাড়া, বিল ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। একইভাবে মিরপুর-১ এর রাজ্জাক হোসেন ২০ হাজার টাকা আয়ের অর্ধেকই বাড়িতে পাঠান, বাকি টাকায় নিজের খরচ মেটাতে গিয়ে ভালো কিছু খাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন। সাভারের গার্মেন্টকর্মী মেহেদী হাসানের আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনে চলে যায়, ফলে ভালো খাবার তার কাছে বিলাসিতা। রিকশাচালক সবুজ মিয়া ও গৃহকর্মী নূর নাহার দম্পতি ২৫ হাজার টাকা আয়ের সংসারে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোমিনুর রহমান জানান, আর্থিক সংকটের কারণে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার ফলে হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তিনি নিত্যপণ্যের দাম ও বাসাভাড়ার লাগাম টানার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি সচেতনতার অভাব ও খাদ্যে ভেজালও অপুষ্টির জন্য দায়ী। তিনি মনে করেন, কম দামের পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

মিরপুর-১ এলাকায় একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেন রাজ্জাক হোসেন (৩০)। সেখানেই একটি বাসায় ব্যাচেলর ভাড়া থাকেন। স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন। সবকিছু মিলে মাসে ২০ হাজার টাকার মতো আয় করেন রাজ্জাক। প্রতি মাসে বাড়িতে ১০ হাজার টাকা পাঠান। বয়স্ক বাবা-মায়ের ওষুধের খরচসহ ৪ জনের পুরো পরিবারের খরচ চলে সেই টাকায়। নিজের জন্য থাকে ১০ হাজার টাকা। সেই টাকার মধ্যে রুম ভাড়া চলে যায় ২৫০০ টাকা, বুয়ার বিল ৬০০ টাকা, অন্যান্য বিল ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর খাওয়ায় মাসে খরচ যায় ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। সামান্য টাকা থাকে দৈনন্দিন খরচে। এ অবস্থায় ভালো কিছু কিনে খাওয়ার সামর্থ্য হয় না রাজ্জাকের।

২২ বছরের যুবক মেহেদী হাসান। সাভারের একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। ওভারটাইম সহ মাসে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় করেন। এর মধ্যে বাড়িতে মা-বাবাকে পাঠান ৫ হাজার টাকা। বাকি ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায় পুরো মাস চলতে হয় তাকে। যার মধ্যে বাসাভাড়া ২৫০০ টাকা, বুয়ার বিল ৫০০ টাকা, খাওয়া ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, অন্যান্য খরচ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। সব খরচ মিলে তার কাছে মাসে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা বাড়তি থাকে। এ অবস্থায় অসুস্থ হলে ধার করতে হয়। মেহেদী মানবজমিনকে বলেন, আয়ের বড় একটা অংশ বাসাভাড়া, এটা ওটা কিনতে চলে যায়। সীমিত একটা অংশ খাওয়ার পেছনে যায়। এ অবস্থায় ভালো কিছু খাওয়া আমাদের জন্য বিলাসিতা।গৃহকর্মী নূর নাহার বেগম। ছয় সদস্যের পরিবারে তিন সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ি রয়েছেন। নাহার মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। স্বামী রিকশাচালক সবুজ মিয়া আয় করেন ১৫ হাজার টাকা। নূর নাহার মানবজমিনকে বলেন, এই ২৫ হাজার টাকায় আগে সংসার চললেও এখন কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। বাসাভাড়া, অন্যান্য খরচ মেটাতে সব টাকা শেষ হয়। পুষ্টিকর খাবার কিনবো কীভাবে?