লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কনডেম সেলে দিন কাটছে মিন্নির

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর থেকে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে অনিশ্চিত অপেক্ষায় দিন পার করছেন তিনি। বর্তমানে এই কনডেম সেলের একমাত্র নারী আসামি হলেন মিন্নি। কারাবিধি অনুযায়ী, তিনি সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান না এবং তাকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিন্নি কারাগারে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা আবেগ প্রকাশ করেননি। তিনি সব সময় চুপচাপ থাকেন এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন। কারাগারে তার আচার-আচরণ সন্তোষজনক এবং এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াননি। নিয়ম অনুযায়ী মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পান তিনি। এছাড়া সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ রয়েছে তার।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য নথিপত্র ওই বছরের ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায়। এরপর দণ্ডপ্রাপ্তরা পৃথক আপিল দায়ের করেন। বর্তমানে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি, তার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে এবং এর পেছনে সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। শারীরিক অবস্থা ভালো নয় উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে মিন্নির জামিন প্রার্থনা করেছেন।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, একটি হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময় কনডেম সেলে বন্দি থাকাকে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানিয়েছেন, সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, মিন্নির শারীরিক অসুস্থতা ও নারী কয়েদি বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জামিন শুনানিতে অপারগতা প্রকাশের পর অন্য বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হলেও তা আর তালিকাভুক্ত হয়নি।

বর্তমানে উচ্চ আদালতে ১২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, যা কয়েক বছর আগে ছিল ৮৪৩টি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০১৯ সালের ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মিন্নিকে কনডেম সেলেই থাকতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির কনডেম সেলে বছরের পর বছর থাকা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। যেহেতু একটি হত্যা মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫-২০ বছর লেগে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে ফাঁসির আসামিদের কনডেম সেলের বাইরে রাখা যায়। কারণ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় মামলা, ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তিতে তোলপাড়

ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কনডেম সেলে দিন কাটছে মিন্নির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর থেকে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে অনিশ্চিত অপেক্ষায় দিন পার করছেন তিনি। বর্তমানে এই কনডেম সেলের একমাত্র নারী আসামি হলেন মিন্নি। কারাবিধি অনুযায়ী, তিনি সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান না এবং তাকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিন্নি কারাগারে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা আবেগ প্রকাশ করেননি। তিনি সব সময় চুপচাপ থাকেন এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন। কারাগারে তার আচার-আচরণ সন্তোষজনক এবং এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াননি। নিয়ম অনুযায়ী মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পান তিনি। এছাড়া সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ রয়েছে তার।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য নথিপত্র ওই বছরের ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায়। এরপর দণ্ডপ্রাপ্তরা পৃথক আপিল দায়ের করেন। বর্তমানে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি, তার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে এবং এর পেছনে সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। শারীরিক অবস্থা ভালো নয় উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে মিন্নির জামিন প্রার্থনা করেছেন।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, একটি হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময় কনডেম সেলে বন্দি থাকাকে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানিয়েছেন, সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, মিন্নির শারীরিক অসুস্থতা ও নারী কয়েদি বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জামিন শুনানিতে অপারগতা প্রকাশের পর অন্য বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হলেও তা আর তালিকাভুক্ত হয়নি।

বর্তমানে উচ্চ আদালতে ১২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, যা কয়েক বছর আগে ছিল ৮৪৩টি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০১৯ সালের ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মিন্নিকে কনডেম সেলেই থাকতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির কনডেম সেলে বছরের পর বছর থাকা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। যেহেতু একটি হত্যা মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫-২০ বছর লেগে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে ফাঁসির আসামিদের কনডেম সেলের বাইরে রাখা যায়। কারণ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না।