লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। গত ১৬ আগস্ট ঢাকা বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

শিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ সাফল্য ও জিপিএ-৫ অর্জন নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বোর্ডের নজরে আসে। এই প্রেক্ষিতে, কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৯ম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য, ভর্তি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র, এসএসসির নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা এবং চূড়ান্ত এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।

বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি একটি অত্যন্ত জরুরি নির্দেশনা। নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ রয়েছে, জিপিএ-৫-এর শতভাগ হার বজায় রাখতে ও কৃত্রিম সাফল্য দেখাতে নির্বাচনি পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাঁটাই করা বা ফরম পূরণ করতে না দেওয়ার মতো নিয়মবহির্ভূত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে সত্যতা অনুসন্ধানে এই নির্দেশ দিয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে নবম শ্রেণিতে মোট ৬০১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল। অথচ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ৩৮২ জন। অর্থাৎ নবম থেকে দশমে পদার্পণ এবং শেষ পর্যন্ত টেস্ট পরীক্ষার ছাঁটাইয়ের শিকার হয়ে ২১৯ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে এবং তাদের শিক্ষাজীবনের একটি মূল্যবান বছর নষ্ট হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৩ জন অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় ৩৮২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের অনেককেই নরসিংদীর সানবীন স্কুলে ৫০ জন, ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ জন, নরসিংদী মডেল স্কুলে ৪ জন এবং সান শাইন মডেল হাই স্কুলে ১ জন ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। এদের মধ্যে সানবীন স্কুলের ২৫ জন, ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন, নরসিংদী মডেল স্কুলের ১ জন এবং সান শাইন মডেল হাই স্কুলের ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলের শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিক খ্যাতি ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষ দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় অত্যন্ত কঠিন প্রশ্নপত্র তৈরি ও খাতা মূল্যায়নে অতি-কঠোর নীতি অনুসরণ করেছে, যাতে মাঝারি মানের শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। গত ১৬ আগস্ট ঢাকা বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

শিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ সাফল্য ও জিপিএ-৫ অর্জন নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বোর্ডের নজরে আসে। এই প্রেক্ষিতে, কর্তৃপক্ষকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৯ম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য, ভর্তি সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র, এসএসসির নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা এবং চূড়ান্ত এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।

বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি একটি অত্যন্ত জরুরি নির্দেশনা। নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ রয়েছে, জিপিএ-৫-এর শতভাগ হার বজায় রাখতে ও কৃত্রিম সাফল্য দেখাতে নির্বাচনি পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ছাঁটাই করা বা ফরম পূরণ করতে না দেওয়ার মতো নিয়মবহির্ভূত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে সত্যতা অনুসন্ধানে এই নির্দেশ দিয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে নবম শ্রেণিতে মোট ৬০১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল। অথচ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ৩৮২ জন। অর্থাৎ নবম থেকে দশমে পদার্পণ এবং শেষ পর্যন্ত টেস্ট পরীক্ষার ছাঁটাইয়ের শিকার হয়ে ২১৯ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে এবং তাদের শিক্ষাজীবনের একটি মূল্যবান বছর নষ্ট হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৩ জন অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় ৩৮২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের অনেককেই নরসিংদীর সানবীন স্কুলে ৫০ জন, ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ জন, নরসিংদী মডেল স্কুলে ৪ জন এবং সান শাইন মডেল হাই স্কুলে ১ জন ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। এদের মধ্যে সানবীন স্কুলের ২৫ জন, ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন, নরসিংদী মডেল স্কুলের ১ জন এবং সান শাইন মডেল হাই স্কুলের ১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলের শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিক খ্যাতি ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষ দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় অত্যন্ত কঠিন প্রশ্নপত্র তৈরি ও খাতা মূল্যায়নে অতি-কঠোর নীতি অনুসরণ করেছে, যাতে মাঝারি মানের শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া যায়।