লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহড়ার আগে জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার আসন্ন বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে জাপান সাগর অভিমুখে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে জাপান সাগরের দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বিষয়টি তাদের রাডারে শনাক্ত হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এটিকে একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ধারণা করছে যে এটি ইতিমধ্যেই সাগরে পতিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য টোকিও এখনো প্রকাশ করেনি।

আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১১ দিনব্যাপী বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই এই ধরনের যৌথ মহড়াকে তাদের দেশে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখে থাকে। এর আগেও সিউল ও ওয়াশিংটনের যৌথ মহড়ার আগে ও পরে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

এবারের যৌথ সামরিক মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি দেশটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, এই মহড়ায় ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মোকাবিলা করার বিশেষ প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সক্রিয় সমর্থনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, মস্কো পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা সহায়তা পাচ্ছে, যদিও এর পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়াকে সমর্থনের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া ক্রেমলিন থেকে বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনারা আধুনিক রণক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

এদিকে যৌথ মহড়ার পাশাপাশি জাপানের সামরিক তৎপরতা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে এসে জাপান আবার সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সম্প্রতি জাপান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা মোতায়েন করছে। গত সপ্তাহে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি মন্তব্য করেছিলেন যে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, জাপান ধীরে ধীরে একটি ‘যুদ্ধরাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে।

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ২৯আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৫৮

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু

মহড়ার আগে জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার আসন্ন বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে জাপান সাগর অভিমুখে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে জাপান সাগরের দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বিষয়টি তাদের রাডারে শনাক্ত হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এটিকে একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ধারণা করছে যে এটি ইতিমধ্যেই সাগরে পতিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য টোকিও এখনো প্রকাশ করেনি।

আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১১ দিনব্যাপী বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই এই ধরনের যৌথ মহড়াকে তাদের দেশে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখে থাকে। এর আগেও সিউল ও ওয়াশিংটনের যৌথ মহড়ার আগে ও পরে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

এবারের যৌথ সামরিক মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি দেশটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, এই মহড়ায় ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মোকাবিলা করার বিশেষ প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সক্রিয় সমর্থনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে, মস্কো পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনা সহায়তা পাচ্ছে, যদিও এর পক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়াকে সমর্থনের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া ক্রেমলিন থেকে বড় ধরনের আর্থিক ও সামরিক সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনারা আধুনিক রণক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

এদিকে যৌথ মহড়ার পাশাপাশি জাপানের সামরিক তৎপরতা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে এসে জাপান আবার সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সম্প্রতি জাপান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা মোতায়েন করছে। গত সপ্তাহে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি মন্তব্য করেছিলেন যে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, জাপান ধীরে ধীরে একটি ‘যুদ্ধরাষ্ট্রে’ পরিণত হচ্ছে।

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ২৯আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৫৮