লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি জরুরি পদক্ষেপ

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১০টি কার্যকর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, সংকটময় এই সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সাথে কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। দুর্গতদের সহায়তায় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গৃহীত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং দুর্গতদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নেতা-কর্মীরা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতা কমাতে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক প্রয়াসের মাধ্যমে দ্রুতই এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৬. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি জরুরি পদক্ষেপ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১০টি কার্যকর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, সংকটময় এই সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সাথে কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। দুর্গতদের সহায়তায় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গৃহীত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং দুর্গতদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নেতা-কর্মীরা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতা কমাতে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক প্রয়াসের মাধ্যমে দ্রুতই এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৬. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।