লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর ভোজে ‘সৈনিক লীগ’ নেতার উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-প্রোফাইল বৈঠক ও নৈশভোজে ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ’র চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিনের সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে তোলপাড় চলছে। ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় কামালের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল করমর্দনের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে আওয়ামী জমানার এই সুবিধাভোগী ও ফ্যাসিবাদের দোসর কীভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংবেদনশীল ভবনে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কামাল উদ্দিন নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ’র চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে তাকে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার বন্দনা করতে দেখা গেছে। তিনি বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট, টিভি উপস্থাপক এবং মানবাধিকার সংগঠনের পদধারী হিসেবে নিজের পরিচয় জাহির করতেন। চট্টগ্রামে সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের কারণে তিনি ‘ব্যাটারি কামাল’ নামেও পরিচিত। এমনকি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন যখন শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরছিল, তখনও তিনি হাসিনার পক্ষে মিছিল ও ছাত্র আন্দোলন দমনের ডাক দিয়েছিলেন। এছাড়া ঢাকার মতিঝিল থানায় তার নামে ইয়াবা কারবারের তালিকাভুক্ত রেকর্ড রয়েছে এবং অতীতে চট্টগ্রামের ‘আফতাব কনকর্ড’ অ্যাপার্টমেন্টে বাসিন্দাদের লাঞ্ছিত করার দায়ে মামলার আসামি হয়েছেন তিনি।

বর্তমান সরকারের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই নৈশভোজে ১৮৪ জন আমন্ত্রিত প্রতিনিধির তালিকায় কামালের নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী কি তাকে ‘ক্লিন ইমেজ’ দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর সুযোগ করে দিয়েছে, নাকি এটি নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনো সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ—তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আওয়ামী আমলে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি নিয়মিত বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

প্রধানমন্ত্রীর ভোজে ‘সৈনিক লীগ’ নেতার উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-প্রোফাইল বৈঠক ও নৈশভোজে ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ’র চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিনের সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে তোলপাড় চলছে। ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় কামালের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল করমর্দনের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে আওয়ামী জমানার এই সুবিধাভোগী ও ফ্যাসিবাদের দোসর কীভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংবেদনশীল ভবনে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কামাল উদ্দিন নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ’র চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে তাকে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার বন্দনা করতে দেখা গেছে। তিনি বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, লেখক, কলামিস্ট, টিভি উপস্থাপক এবং মানবাধিকার সংগঠনের পদধারী হিসেবে নিজের পরিচয় জাহির করতেন। চট্টগ্রামে সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের কারণে তিনি ‘ব্যাটারি কামাল’ নামেও পরিচিত। এমনকি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন যখন শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরছিল, তখনও তিনি হাসিনার পক্ষে মিছিল ও ছাত্র আন্দোলন দমনের ডাক দিয়েছিলেন। এছাড়া ঢাকার মতিঝিল থানায় তার নামে ইয়াবা কারবারের তালিকাভুক্ত রেকর্ড রয়েছে এবং অতীতে চট্টগ্রামের ‘আফতাব কনকর্ড’ অ্যাপার্টমেন্টে বাসিন্দাদের লাঞ্ছিত করার দায়ে মামলার আসামি হয়েছেন তিনি।

বর্তমান সরকারের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই নৈশভোজে ১৮৪ জন আমন্ত্রিত প্রতিনিধির তালিকায় কামালের নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী কি তাকে ‘ক্লিন ইমেজ’ দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর সুযোগ করে দিয়েছে, নাকি এটি নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনো সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ—তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আওয়ামী আমলে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি নিয়মিত বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।