লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেড ক্যাটাগরির পাওয়ার গ্রিড কেন ডিএস৩০ সূচকে, উঠছে প্রশ্ন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০-এর সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে, কারণ তারা টানা তিন বছর লোকসানে রয়েছে এবং লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। এমন একটি কোম্পানি কীভাবে শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচকে জায়গা পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই থেকে নতুন ডিএস৩০ সূচক কার্যকর হবে। এই তালিকায় পাওয়ার গ্রিডের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) এবং দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে কোহিনূর কেমিক্যাল (বাংলাদেশ), ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং লিন্ডে বাংলাদেশ সূচক থেকে বাদ পড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাওয়ার গ্রিডের নিট লোকসান ছিল ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকায় নেমে আসে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসান আরও কমে ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। লোকসান সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধি বেড়েছে। গত তিন বছরে তাদের রাজস্ব ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে ৮০ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১১৬ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন ৭১৩ কোটি টাকা।

ডিএসইর তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ টাকা ২২ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৬ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে। ডিএসইর মতে, ব্যয় হ্রাস, আয় বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় বাড়ার কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, যা সূচকে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান বলেন, ডিএস৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ক্যাটাগরি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তিনি জানান, সর্বশেষ তিন প্রান্তিকের ইতিবাচক আর্থিক ফলাফল এবং সূচক নির্ধারণের অন্যান্য শর্ত পূরণ করায় কোম্পানিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন, তারল্য, নিয়মিত লেনদেন এবং খাতভিত্তিক ভারসাম্যও বিবেচনা করা হয়।

তবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, লভ্যাংশ বিতরণ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী বা মৌলভিত্তিসম্পন্ন বলা কঠিন। তিনি বলেন, পাওয়ার গ্রিড ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী হলেও জেড ক্যাটাগরিতে থাকা অবস্থায় সূচকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আল-আমিন বলেন, ব্লু-চিপ সূচকে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির থাকাটা সাধারণ নিয়ম নয়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিতে না পারা একটি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে ডিএসইর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন প্রায় ৭১৩ কোটি টাকা। যদিও ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ এবং ২০২২ ও ২০২৩ অর্থবছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে লভ্যাংশ দিতে না পারায় কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে নেমে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর কলেজে দেয়াল ধসে ২ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭

জেড ক্যাটাগরির পাওয়ার গ্রিড কেন ডিএস৩০ সূচকে, উঠছে প্রশ্ন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০-এর সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে, কারণ তারা টানা তিন বছর লোকসানে রয়েছে এবং লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। এমন একটি কোম্পানি কীভাবে শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচকে জায়গা পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই থেকে নতুন ডিএস৩০ সূচক কার্যকর হবে। এই তালিকায় পাওয়ার গ্রিডের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) এবং দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে কোহিনূর কেমিক্যাল (বাংলাদেশ), ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং লিন্ডে বাংলাদেশ সূচক থেকে বাদ পড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাওয়ার গ্রিডের নিট লোকসান ছিল ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকায় নেমে আসে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসান আরও কমে ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। লোকসান সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধি বেড়েছে। গত তিন বছরে তাদের রাজস্ব ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে ৮০ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১১৬ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন ৭১৩ কোটি টাকা।

ডিএসইর তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ টাকা ২২ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৬ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে। ডিএসইর মতে, ব্যয় হ্রাস, আয় বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় বাড়ার কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, যা সূচকে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান বলেন, ডিএস৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ক্যাটাগরি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তিনি জানান, সর্বশেষ তিন প্রান্তিকের ইতিবাচক আর্থিক ফলাফল এবং সূচক নির্ধারণের অন্যান্য শর্ত পূরণ করায় কোম্পানিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন, তারল্য, নিয়মিত লেনদেন এবং খাতভিত্তিক ভারসাম্যও বিবেচনা করা হয়।

তবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, লভ্যাংশ বিতরণ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী বা মৌলভিত্তিসম্পন্ন বলা কঠিন। তিনি বলেন, পাওয়ার গ্রিড ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী হলেও জেড ক্যাটাগরিতে থাকা অবস্থায় সূচকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আল-আমিন বলেন, ব্লু-চিপ সূচকে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির থাকাটা সাধারণ নিয়ম নয়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিতে না পারা একটি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে ডিএসইর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন প্রায় ৭১৩ কোটি টাকা। যদিও ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ এবং ২০২২ ও ২০২৩ অর্থবছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে লভ্যাংশ দিতে না পারায় কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে নেমে আসে।