লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে খাল পুনঃখননে ফিরছে কৃষিজমির প্রাণ ও সেচ সুবিধা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক সময় পলি ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল খালগুলো, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছিল। এর ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়তেন। এই সমস্যা সমাধানে সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি) এবং জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঁচটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষি, মৎস্য চাষ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খালগুলো খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধানসিঁড়ি-পিংড়ি-কাঠাখালী, উত্তর তারাবুনিয়া, তুলাতলি, রাড়িবাড়ি ও মরিচবুনিয়া খালগুলো পুনঃখননের আওতায় আনা হয়েছে, যা এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ির কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা, যা প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে উপকৃত করবে। এছাড়া সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার ৮০০ মিটার খাল খননে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ৫০০ জন এবং রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের এক হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২ হাজার ৫০ জন মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। একই সাথে তুলাতলি এলাকার দুই হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৫০০ জন এবং রাড়িবাড়ি খালের এক হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ১৪ লাখ পাঁচ হাজার টাকা ব্যয়ে আরও এক হাজার ৪০০ মানুষ সুবিধা পাবেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাটির ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক রিপন সিকদার জানান, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে অনেক কষ্ট হতো, কিন্তু এখন সহজে পানি পাওয়ার ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি বলেন, খাল ভরাট থাকায় রান্না ও গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির অভাব ছিল, যা এখন দূর হওয়ায় জনদুর্ভোগ কমেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

রাজাপুরে খাল পুনঃখননে ফিরছে কৃষিজমির প্রাণ ও সেচ সুবিধা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক সময় পলি ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল খালগুলো, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছিল। এর ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়তেন। এই সমস্যা সমাধানে সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি) এবং জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঁচটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষি, মৎস্য চাষ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খালগুলো খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধানসিঁড়ি-পিংড়ি-কাঠাখালী, উত্তর তারাবুনিয়া, তুলাতলি, রাড়িবাড়ি ও মরিচবুনিয়া খালগুলো পুনঃখননের আওতায় আনা হয়েছে, যা এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ির কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা, যা প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে উপকৃত করবে। এছাড়া সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার ৮০০ মিটার খাল খননে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ৫০০ জন এবং রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের এক হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২ হাজার ৫০ জন মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। একই সাথে তুলাতলি এলাকার দুই হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৫০০ জন এবং রাড়িবাড়ি খালের এক হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে ১৪ লাখ পাঁচ হাজার টাকা ব্যয়ে আরও এক হাজার ৪০০ মানুষ সুবিধা পাবেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাটির ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক রিপন সিকদার জানান, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে অনেক কষ্ট হতো, কিন্তু এখন সহজে পানি পাওয়ার ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি বলেন, খাল ভরাট থাকায় রান্না ও গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির অভাব ছিল, যা এখন দূর হওয়ায় জনদুর্ভোগ কমেছে।