লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরের জলাবদ্ধতা দূর করতে কেডি ক্যানেল বাঁচানোর দাবি

রংপুর নগরীর পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ঐতিহ্যবাহী কেডি ক্যানেল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এই জলধারাটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রংপুর নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যা নগরবাসীর জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, কয়েক দশক আগেও কেডি ক্যানেলের পানি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। বর্ষাকালে এই ক্যানেল দিয়ে দ্রুত পানি প্রবাহিত হতো, যার ফলে শহরের জলাবদ্ধতা সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকত। ক্যানেলের দুই পাড়ে ছিল মনোরম সবুজ পরিবেশ, যেখানে স্থানীয়রা মাছ ধরতেন এবং দৈনন্দিন কাজে এই পানির ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ তদারকির অভাবে ক্যানেলটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। নগরায়নের নামে ক্যানেলের অংশ ভরাট করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যার ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এর প্রস্থ।

বর্তমানে ক্যানেলটির তীরবর্তী এলাকাগুলো আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার কারণে ক্যানেলের তলদেশ ভরাট হয়ে পানিধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জলাশয় সংকুচিত হওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ কমে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে এবং শহরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া ক্যানেলের দূষিত পানি ও দুর্গন্ধের কারণে সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রংপুরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কেডি ক্যানেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এটি সঠিকভাবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সচেতন নাগরিক ও পরিবেশকর্মীরা অবিলম্বে ক্যানেলের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সীমানা নির্ধারণ, নিয়মিত খনন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ক্যানেল রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ানে সামরিক আগ্রাসন কি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার অবসান ঘটাবে?

রংপুরের জলাবদ্ধতা দূর করতে কেডি ক্যানেল বাঁচানোর দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীর পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ঐতিহ্যবাহী কেডি ক্যানেল এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এই জলধারাটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রংপুর নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যা নগরবাসীর জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, কয়েক দশক আগেও কেডি ক্যানেলের পানি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ। বর্ষাকালে এই ক্যানেল দিয়ে দ্রুত পানি প্রবাহিত হতো, যার ফলে শহরের জলাবদ্ধতা সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকত। ক্যানেলের দুই পাড়ে ছিল মনোরম সবুজ পরিবেশ, যেখানে স্থানীয়রা মাছ ধরতেন এবং দৈনন্দিন কাজে এই পানির ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ তদারকির অভাবে ক্যানেলটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। নগরায়নের নামে ক্যানেলের অংশ ভরাট করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যার ফলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এর প্রস্থ।

বর্তমানে ক্যানেলটির তীরবর্তী এলাকাগুলো আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার কারণে ক্যানেলের তলদেশ ভরাট হয়ে পানিধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জলাশয় সংকুচিত হওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ কমে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে এবং শহরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া ক্যানেলের দূষিত পানি ও দুর্গন্ধের কারণে সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা মশার উপদ্রব ও পানিবাহিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রংপুরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কেডি ক্যানেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এটি সঠিকভাবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সচেতন নাগরিক ও পরিবেশকর্মীরা অবিলম্বে ক্যানেলের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সীমানা নির্ধারণ, নিয়মিত খনন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ক্যানেল রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিয়েছেন।