লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো কি জায়েজ? জেনে নিন ইসলামি বিধান

কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বাতি বা আলো ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে। ইসলামি ফিকহ ও শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মবেত্তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মূলত উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই বিধানের পার্থক্য হয়ে থাকে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বা অন্য যেকোনো ধরনের বাতি জ্বালানোর উদ্দেশ্য যদি কবরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা আলোকসজ্জা না হয়, বরং মানুষের বাস্তব প্রয়োজন পূরণ করা হয়, তবে তা সম্পূর্ণ জায়েজ। যেমন রাতে দাফন কাজ সম্পন্ন করা, জিয়ারতকারীদের চলাচলের সুবিধা এবং অন্ধকার দূর করার প্রয়োজনে কবরস্থানে বাতি লাগানো যাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরাও প্রয়োজনের সময় কবরস্থানে বাতি জ্বালিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, নবী কারিম (সা.) রাতে একটি কবরে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর জন্য বাতি জ্বালানো হয়েছিল। (সুনানে তিরমিজি: ১০৫৭, সুনানে নাসাঈ: ১৫২০)। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন, যদি কাউকে রাতে দাফন করা হয় এবং এর জন্য আলোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে কবরস্থানে আলো জ্বালাতে কোনো অসুবিধা নেই। (আল-মুগনি: ২/৩৫৬)।

অন্যদিকে, মৃতের কোনো উপকার হবে এমন বিশ্বাস থেকে কিংবা কবরের প্রতি ভক্তি ও সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বা অন্য কোনো বাতি জ্বালানো নাজায়েজ। রাসুল (সা.) এ ধরনের উদ্দেশ্যে বাতি জ্বালাতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন ওইসব লোকের প্রতি, যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে ও প্রদীপ জ্বালায়। (সুনানে আবি দাউদ: ৩২৩৬)।

এ বিষয়ে আল্লামা কাশ্মীরি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, মৃত ব্যক্তির কাজে আসবে—এমন ধারণা থেকে কবরে আলো জ্বালানো জায়েজ নয়। তবে জিয়ারতকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আলেমগণ আলো জ্বালানোকে জায়েজ বলেছেন। (আল-আরফুশ শাযি: ১/৩২২)। অতএব, কেবল ভক্তি প্রদর্শন বা অলঙ্করণের নিয়তে কবরস্থানে আলো জ্বালানো ইসলামে নিষিদ্ধ হলেও দাফন সহজ করা, রাতকালীন নিরাপত্তা বজায় রাখা ও অন্ধকার দূর করার বাস্তব প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েজ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনে হাইকোর্টের দুই মাসের স্থগিতাদেশ

কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো কি জায়েজ? জেনে নিন ইসলামি বিধান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বাতি বা আলো ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে। ইসলামি ফিকহ ও শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মবেত্তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মূলত উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই বিধানের পার্থক্য হয়ে থাকে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বা অন্য যেকোনো ধরনের বাতি জ্বালানোর উদ্দেশ্য যদি কবরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা আলোকসজ্জা না হয়, বরং মানুষের বাস্তব প্রয়োজন পূরণ করা হয়, তবে তা সম্পূর্ণ জায়েজ। যেমন রাতে দাফন কাজ সম্পন্ন করা, জিয়ারতকারীদের চলাচলের সুবিধা এবং অন্ধকার দূর করার প্রয়োজনে কবরস্থানে বাতি লাগানো যাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরাও প্রয়োজনের সময় কবরস্থানে বাতি জ্বালিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, নবী কারিম (সা.) রাতে একটি কবরে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর জন্য বাতি জ্বালানো হয়েছিল। (সুনানে তিরমিজি: ১০৫৭, সুনানে নাসাঈ: ১৫২০)। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) বলেন, যদি কাউকে রাতে দাফন করা হয় এবং এর জন্য আলোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে কবরস্থানে আলো জ্বালাতে কোনো অসুবিধা নেই। (আল-মুগনি: ২/৩৫৬)।

অন্যদিকে, মৃতের কোনো উপকার হবে এমন বিশ্বাস থেকে কিংবা কবরের প্রতি ভক্তি ও সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে কবরস্থানে বৈদ্যুতিক বা অন্য কোনো বাতি জ্বালানো নাজায়েজ। রাসুল (সা.) এ ধরনের উদ্দেশ্যে বাতি জ্বালাতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন ওইসব লোকের প্রতি, যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে ও প্রদীপ জ্বালায়। (সুনানে আবি দাউদ: ৩২৩৬)।

এ বিষয়ে আল্লামা কাশ্মীরি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, মৃত ব্যক্তির কাজে আসবে—এমন ধারণা থেকে কবরে আলো জ্বালানো জায়েজ নয়। তবে জিয়ারতকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আলেমগণ আলো জ্বালানোকে জায়েজ বলেছেন। (আল-আরফুশ শাযি: ১/৩২২)। অতএব, কেবল ভক্তি প্রদর্শন বা অলঙ্করণের নিয়তে কবরস্থানে আলো জ্বালানো ইসলামে নিষিদ্ধ হলেও দাফন সহজ করা, রাতকালীন নিরাপত্তা বজায় রাখা ও অন্ধকার দূর করার বাস্তব প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েজ।