লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রাশিয়া কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এই প্রস্তাব আসে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করছে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম এবং মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি রাশিয়াকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এর আগে চলতি মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির জন্য ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে। ওই সময় এমওপি সার আমদানির ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কানাডা ও রাশিয়া থেকে প্রতি টন একই দরে কিনছে সরকার।

বৈঠকে টিসিবি এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে থাকা সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রাশিয়া সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা এবং লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাংলাদেশে সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। দুই পক্ষই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তরের শীর্ষ পদে রাজনীতিকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মকর্তাদের ক্ষোভ

বাংলাদেশে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রাশিয়া কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এই প্রস্তাব আসে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করছে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম এবং মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি রাশিয়াকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এর আগে চলতি মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির জন্য ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে। ওই সময় এমওপি সার আমদানির ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কানাডা ও রাশিয়া থেকে প্রতি টন একই দরে কিনছে সরকার।

বৈঠকে টিসিবি এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে থাকা সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রাশিয়া সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা এবং লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাংলাদেশে সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। দুই পক্ষই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।