লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতি সন্তান জন্মের জন্য পরিবারকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেবে সিঙ্গাপুর

জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সিঙ্গাপুরের পরিবারগুলোকে সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, প্রতিটি নবজাতক জন্মের পর থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সহায়তা হিসেবে বাবা-মাকে প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। গত বছর দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের ব্যবধান আরও কমে এসেছে।

সরকার এই নতুন সহায়তা কর্মসূচিকে পরিবারগুলোর জন্য একটি মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় সন্তান জন্মের সময় পরিবারগুলোকে ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৩৩০ পাউন্ড 'বেবি গিফট' হিসেবে দেয়া হবে। এছাড়া সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে একই ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর দেখভাল, কম মূল্যে নার্সারি সুবিধা এবং শিশুর যত্নের জন্য ছুটির খরচ বহন করবে সরকার। বাবা-মায়ের ছুটির সুবিধাও বৃদ্ধি করা হবে এবং বড় পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি সহায়তা দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানান, সন্তান থাকা পরিবারগুলোকে ভর্তুকিযুক্ত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম বাড়ি কিনতেও সহায়তা করবে সরকার। গত সপ্তাহান্তে বার্ষিক ন্যাশনাল ডে র‌্যালিতে তিনি বলেন, পরিবারগুলো বর্তমানে বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। যারা সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা প্রদান করবে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দেশের জনসংখ্যার ২১ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে তাকে 'সুপার-এজড' বা অতিবয়স্ক সমাজ বলা হয়। সিঙ্গাপুর এই বছরের মধ্যেই সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি চারজন নাগরিকের একজন এই বয়সসীমায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার আগে সন্তান নেয়া পিছিয়ে দেয়া বা সন্তান না নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। গত মাসে ইউগভের এক জরিপে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৪৯৬ জন সিঙ্গাপুরবাসীর মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ জানিয়েছেন যে তাদের কোনো সন্তান নেই এবং ভবিষ্যতে নেয়ার পরিকল্পনাও নেই। গত বছর সিঙ্গাপুরের মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ০.৮৭-এ নেমে এসেছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ০.৯৭।

জনপ্রিয় সংবাদ

নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

প্রতি সন্তান জন্মের জন্য পরিবারকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেবে সিঙ্গাপুর

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সিঙ্গাপুরের পরিবারগুলোকে সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, প্রতিটি নবজাতক জন্মের পর থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সহায়তা হিসেবে বাবা-মাকে প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা দেয়া হবে। গত বছর দেশটিতে জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের ব্যবধান আরও কমে এসেছে।

সরকার এই নতুন সহায়তা কর্মসূচিকে পরিবারগুলোর জন্য একটি মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় সন্তান জন্মের সময় পরিবারগুলোকে ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৩৩০ পাউন্ড 'বেবি গিফট' হিসেবে দেয়া হবে। এছাড়া সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার ব্যয় মেটাতে একই ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিশুর দেখভাল, কম মূল্যে নার্সারি সুবিধা এবং শিশুর যত্নের জন্য ছুটির খরচ বহন করবে সরকার। বাবা-মায়ের ছুটির সুবিধাও বৃদ্ধি করা হবে এবং বড় পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি সহায়তা দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানান, সন্তান থাকা পরিবারগুলোকে ভর্তুকিযুক্ত আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম বাড়ি কিনতেও সহায়তা করবে সরকার। গত সপ্তাহান্তে বার্ষিক ন্যাশনাল ডে র‌্যালিতে তিনি বলেন, পরিবারগুলো বর্তমানে বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। যারা সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা প্রদান করবে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দেশের জনসংখ্যার ২১ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে তাকে 'সুপার-এজড' বা অতিবয়স্ক সমাজ বলা হয়। সিঙ্গাপুর এই বছরের মধ্যেই সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি চারজন নাগরিকের একজন এই বয়সসীমায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার আগে সন্তান নেয়া পিছিয়ে দেয়া বা সন্তান না নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। গত মাসে ইউগভের এক জরিপে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৪৯৬ জন সিঙ্গাপুরবাসীর মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ জানিয়েছেন যে তাদের কোনো সন্তান নেই এবং ভবিষ্যতে নেয়ার পরিকল্পনাও নেই। গত বছর সিঙ্গাপুরের মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ০.৮৭-এ নেমে এসেছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ০.৯৭।