লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ইয়াবা মামলায় পরিচয় জালিয়াতির শিকার সোনা মিয়া মুক্ত

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় অন্যের অপরাধের দায় মাথায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাভোগ করা দিনমজুর সোনা মিয়া অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। আদালতের দেওয়া চারটি শর্তে জামিন পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তিনি কারামুক্ত হন। কারাফটকে অপেক্ষারত স্বজনেরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিমের আদালত সোনা মিয়াকে কারামুক্তির আদেশ দেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সোনা মিয়ার জামিনের জন্য ৪টি শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো—আদালতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট জমা রাখা, আদালতের অনুমতি ছাড়া ঠিকানা পরিবর্তন না করা, নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত রাখা। এছাড়া তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হাজির হয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। থানা পুলিশকেও প্রতি তিন মাস পর পর তার উপস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ মো. রমজান নামের এক ব্যক্তিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় রমজান নিজের আসল পরিচয় গোপন করে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেন এবং নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ বলে পরিচয় দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার পাঁচ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এরপর ২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়ার পরিচয় ব্যবহার করেই মূল আসামি মো. রমজান জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, পলাতক রমজানকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, গত ২৪ জুন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত অপরাধী রমজানের পরিবর্তে দিনমজুর সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। কারাগারে গিয়ে সোনা মিয়া দাবি করেন যে তিনি এই ইয়াবা মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। পরবর্তীতে কারাগার কর্তৃপক্ষ মামলার নথিতে থাকা ছবি, পরিচয় ও মায়ের নামসহ বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে সোনা মিয়ার তথ্যের অমিল খুঁজে পায়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে জেলা ও দায়রা জজ পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী তদন্ত সম্পন্ন করে গত ৫ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কারাগারে থাকা সোনা মিয়া প্রকৃত অপরাধী নন। মূলত রোহিঙ্গা নাগরিক মো. রমজান নিজের পরিচয় গোপন করতে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেছিলেন এবং সেই ভুল পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করেই মামলার চার্জশিট ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সোনা মিয়ার আইনজীবী আব্দুল মান্নান বলেন, মামলার তদন্ত পর্যায়ে আসামির প্রকৃত পরিচয় যাচাই না করার কারণেই একজন নিরপরাধ মানুষকে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে এনে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত সব নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর ওপর ছিনতাইকারীর হাম/লা, রগ কে/টে দেওয়ার অভিযোগ

কক্সবাজারে ইয়াবা মামলায় পরিচয় জালিয়াতির শিকার সোনা মিয়া মুক্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় অন্যের অপরাধের দায় মাথায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাভোগ করা দিনমজুর সোনা মিয়া অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। আদালতের দেওয়া চারটি শর্তে জামিন পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তিনি কারামুক্ত হন। কারাফটকে অপেক্ষারত স্বজনেরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুর রহিমের আদালত সোনা মিয়াকে কারামুক্তির আদেশ দেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সোনা মিয়ার জামিনের জন্য ৪টি শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। শর্তগুলো হলো—আদালতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট জমা রাখা, আদালতের অনুমতি ছাড়া ঠিকানা পরিবর্তন না করা, নির্ধারিত সময়ে হাজিরা দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত রাখা। এছাড়া তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হাজির হয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। থানা পুলিশকেও প্রতি তিন মাস পর পর তার উপস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ মো. রমজান নামের এক ব্যক্তিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় রমজান নিজের আসল পরিচয় গোপন করে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেন এবং নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ বলে পরিচয় দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার পাঁচ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এরপর ২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়ার পরিচয় ব্যবহার করেই মূল আসামি মো. রমজান জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, পলাতক রমজানকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, গত ২৪ জুন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত অপরাধী রমজানের পরিবর্তে দিনমজুর সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপরই ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। কারাগারে গিয়ে সোনা মিয়া দাবি করেন যে তিনি এই ইয়াবা মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। পরবর্তীতে কারাগার কর্তৃপক্ষ মামলার নথিতে থাকা ছবি, পরিচয় ও মায়ের নামসহ বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে সোনা মিয়ার তথ্যের অমিল খুঁজে পায়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে জেলা ও দায়রা জজ পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী তদন্ত সম্পন্ন করে গত ৫ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কারাগারে থাকা সোনা মিয়া প্রকৃত অপরাধী নন। মূলত রোহিঙ্গা নাগরিক মো. রমজান নিজের পরিচয় গোপন করতে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেছিলেন এবং সেই ভুল পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করেই মামলার চার্জশিট ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সোনা মিয়ার আইনজীবী আব্দুল মান্নান বলেন, মামলার তদন্ত পর্যায়ে আসামির প্রকৃত পরিচয় যাচাই না করার কারণেই একজন নিরপরাধ মানুষকে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে এনে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত সব নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।