লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের নিরাপদ পৃথিবীর খোঁজে দেশের সচেতন শিক্ষার্থীরা

গণপরিবহন থেকে কর্মক্ষেত্র—নারীদের নিরাপত্তাহীনতার সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা নারী সুরক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজের পূর্বশর্ত হলো নারীর অবাধ ও নিরাপদ বিচরণ। অথচ বর্তমান সমাজব্যবস্থায় গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র, সাইবারজগৎ এমনকি নিজের চেনা গৃহকোণেও নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শঙ্কা আর ভয়ের এই অন্ধকার চাদর সরিয়ে কীভাবে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ভাবনাগুলো এক সুতোয় গেঁথেছেন শিক্ষার্থী আমানুর রহমান।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নারী কেবল সমাজের অর্ধেক অংশ নন, তিনি সভ্যতার ভিত্তি। তাই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। সূরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, আইনের কার্যকর প্রয়োগ, পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব।

নারীদের চলাফেরার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের রেশমী আকতার বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা ঘরের বাইরে পা বাড়ালেই লোলুপ দৃষ্টির মুখোমুখি হন। কর্মক্ষেত্রে কটূক্তি ও নোংরা প্রস্তাবের শিকার হওয়া এবং একা পথ চলায় নিরাপত্তা না থাকাটা একটি বড় সংকট। তিনি নারীদের কেবল ভোগের বস্তু না ভেবে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা তৈরির আহ্বান জানান।

গণপরিবহনে হয়রানি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ফাহিমা আক্তার বলেন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা এবং গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা সময়ের দাবি। তবে শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজের তানজিলা আক্তার বলেন, অনলাইনে হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশই ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণী। ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর তথ্যমতে, কয়েক মাসে ২,৬৯৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার ৩১ শতাংশ ট্রলিং, ১৭ শতাংশ হ্যাকিং এবং ১৫ শতাংশ অন্যের পরিচয় ব্যবহারের ঘটনা। তিনি ডিজিটাল সাক্ষরতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউ গভর্মেন্ট ডিগ্রি কলেজের শ্যামা মেহজাবিন বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ নারী পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যের হাতে সহিংসতার শিকার হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কাছে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই স্বাধীন দেশে নারী আসলে কার কাছে নিরাপদ?

চট্টগ্রাম কলেজের অস্তি বড়ুয়া মন্তব্য করেন, দেশে পর্যাপ্ত আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। অর্থের আধিপত্য ও বিচারহীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে ভয় পান। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, আইন যেন কেবল সংবিধানের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব জীবনে এর স্বচ্ছ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

নারীদের নিরাপদ পৃথিবীর খোঁজে দেশের সচেতন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজের পূর্বশর্ত হলো নারীর অবাধ ও নিরাপদ বিচরণ। অথচ বর্তমান সমাজব্যবস্থায় গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র, সাইবারজগৎ এমনকি নিজের চেনা গৃহকোণেও নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শঙ্কা আর ভয়ের এই অন্ধকার চাদর সরিয়ে কীভাবে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ভাবনাগুলো এক সুতোয় গেঁথেছেন শিক্ষার্থী আমানুর রহমান।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নারী কেবল সমাজের অর্ধেক অংশ নন, তিনি সভ্যতার ভিত্তি। তাই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। সূরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, আইনের কার্যকর প্রয়োগ, পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব।

নারীদের চলাফেরার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের রেশমী আকতার বলেন, বর্তমান সমাজে নারীরা ঘরের বাইরে পা বাড়ালেই লোলুপ দৃষ্টির মুখোমুখি হন। কর্মক্ষেত্রে কটূক্তি ও নোংরা প্রস্তাবের শিকার হওয়া এবং একা পথ চলায় নিরাপত্তা না থাকাটা একটি বড় সংকট। তিনি নারীদের কেবল ভোগের বস্তু না ভেবে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা তৈরির আহ্বান জানান।

গণপরিবহনে হয়রানি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ফাহিমা আক্তার বলেন, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা এবং গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা সময়ের দাবি। তবে শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজের তানজিলা আক্তার বলেন, অনলাইনে হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশই ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণী। ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর তথ্যমতে, কয়েক মাসে ২,৬৯৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার ৩১ শতাংশ ট্রলিং, ১৭ শতাংশ হ্যাকিং এবং ১৫ শতাংশ অন্যের পরিচয় ব্যবহারের ঘটনা। তিনি ডিজিটাল সাক্ষরতা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউ গভর্মেন্ট ডিগ্রি কলেজের শ্যামা মেহজাবিন বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ নারী পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যের হাতে সহিংসতার শিকার হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কাছে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই স্বাধীন দেশে নারী আসলে কার কাছে নিরাপদ?

চট্টগ্রাম কলেজের অস্তি বড়ুয়া মন্তব্য করেন, দেশে পর্যাপ্ত আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। অর্থের আধিপত্য ও বিচারহীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে ভয় পান। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, আইন যেন কেবল সংবিধানের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তব জীবনে এর স্বচ্ছ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়।