লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সূর্যের অতিক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্তের রহস্য উন্মোচন করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠে বা ফটোস্ফিয়ারে অতিক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্ত বা ভর্টেক্স আকৃতির গঠন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চ-রেজোলিউশনের এসব ছবি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর টেলিস্কোপ দিয়ে ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে অবস্থিত ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে সোলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যের উত্তপ্ত প্লাজমার মধ্যে এই সূক্ষ্ম অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরি, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা। সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪ লাখ কিলোমিটার হলেও, এই গবেষণায় ফটোস্ফিয়ারের মাত্র ১০০ কিলোমিটার পুরু অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্তরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। টাইম-ল্যাপস ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, সূর্যের অতিউত্তপ্ত প্লাজমার মধ্যে ১৯ থেকে ১৭০ কিলোমিটার ব্যাসের ছোট ছোট ঘূর্ণাবর্ত ক্রমাগত সৃষ্টি হচ্ছে।

ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ড. ফ্রিডরিখ ভ্যোগারের মতে, কোনো নক্ষত্রের পৃষ্ঠে প্রথমবারের মতো কেলভিন-হেলমহোল্টজ অস্থিতিশীলতা প্রত্যক্ষভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। ভিন্ন গতিতে চলা দুটি প্লাজমা স্তরের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে এই ঘূর্ণি তৈরি হয়, যা অনেকটা বাতাসের প্রভাবে সমুদ্রের পানিতে ঢেউ তৈরির মতোই। ড. ভ্যোগার জানান, পৃথিবীতে মেঘের গঠন বা বৃহস্পতি ও শনির বায়ুমণ্ডলেও এমন ঘূর্ণি দেখা যায়। তবে সূর্যের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে প্রবাহিত হওয়ায় এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।

গবেষণার আরেক সহ-প্রধান লেখক ড. ডেভিড কুরিদজে উল্লেখ করেন যে, সূর্য অত্যন্ত গতিশীল এবং সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী চৌম্বকীয় ঘটনা ও বিস্ফোরণ ঘটে। এই নতুন আবিষ্কার সৌর শিখা কিংবা করোনাল মাস ইজেকশনের মতো বিস্ফোরণের সূচনা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষকদের মতে, এই ঘূর্ণিগুলো সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রকে পাকিয়ে প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে, যা পরে হঠাৎ মুক্ত হয়ে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এই ঘূর্ণিগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্যেরও প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সূর্যের পৃষ্ঠের এই ঘূর্ণিগুলো ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ চিত্রকর্মের আকাশের ঘূর্ণি এবং জাপানি শিল্পী হোকুসাইয়ের ‘দ্য গ্রেট ওয়েভ অফ কানাগাওয়া’-এর ঢেউয়ের বাঁকানো আকৃতির সঙ্গে বিস্ময়কর মিল রাখে। গবেষকদের প্রত্যাশা, এই শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সূর্যের আরও সূক্ষ্ম আচরণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা সৌর ঝড়ের পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল করে পৃথিবীর প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়তা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ আগস্ট প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল

সূর্যের অতিক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্তের রহস্য উন্মোচন করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠে বা ফটোস্ফিয়ারে অতিক্ষুদ্র ঘূর্ণাবর্ত বা ভর্টেক্স আকৃতির গঠন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চ-রেজোলিউশনের এসব ছবি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর টেলিস্কোপ দিয়ে ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে অবস্থিত ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে সোলার টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যের উত্তপ্ত প্লাজমার মধ্যে এই সূক্ষ্ম অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরি, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা। সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪ লাখ কিলোমিটার হলেও, এই গবেষণায় ফটোস্ফিয়ারের মাত্র ১০০ কিলোমিটার পুরু অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্তরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। টাইম-ল্যাপস ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে দেখা গেছে, সূর্যের অতিউত্তপ্ত প্লাজমার মধ্যে ১৯ থেকে ১৭০ কিলোমিটার ব্যাসের ছোট ছোট ঘূর্ণাবর্ত ক্রমাগত সৃষ্টি হচ্ছে।

ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ড. ফ্রিডরিখ ভ্যোগারের মতে, কোনো নক্ষত্রের পৃষ্ঠে প্রথমবারের মতো কেলভিন-হেলমহোল্টজ অস্থিতিশীলতা প্রত্যক্ষভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। ভিন্ন গতিতে চলা দুটি প্লাজমা স্তরের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে এই ঘূর্ণি তৈরি হয়, যা অনেকটা বাতাসের প্রভাবে সমুদ্রের পানিতে ঢেউ তৈরির মতোই। ড. ভ্যোগার জানান, পৃথিবীতে মেঘের গঠন বা বৃহস্পতি ও শনির বায়ুমণ্ডলেও এমন ঘূর্ণি দেখা যায়। তবে সূর্যের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্লাজমা শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে প্রবাহিত হওয়ায় এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।

গবেষণার আরেক সহ-প্রধান লেখক ড. ডেভিড কুরিদজে উল্লেখ করেন যে, সূর্য অত্যন্ত গতিশীল এবং সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী চৌম্বকীয় ঘটনা ও বিস্ফোরণ ঘটে। এই নতুন আবিষ্কার সৌর শিখা কিংবা করোনাল মাস ইজেকশনের মতো বিস্ফোরণের সূচনা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষকদের মতে, এই ঘূর্ণিগুলো সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্রকে পাকিয়ে প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে, যা পরে হঠাৎ মুক্ত হয়ে পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বিজ্ঞানীরা এই ঘূর্ণিগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্যেরও প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সূর্যের পৃষ্ঠের এই ঘূর্ণিগুলো ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের ‘দ্য স্টারি নাইট’ চিত্রকর্মের আকাশের ঘূর্ণি এবং জাপানি শিল্পী হোকুসাইয়ের ‘দ্য গ্রেট ওয়েভ অফ কানাগাওয়া’-এর ঢেউয়ের বাঁকানো আকৃতির সঙ্গে বিস্ময়কর মিল রাখে। গবেষকদের প্রত্যাশা, এই শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সূর্যের আরও সূক্ষ্ম আচরণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা সৌর ঝড়ের পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল করে পৃথিবীর প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়তা করবে।