লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তানজিদের ফিফটির পর বিদায়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চাপে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান ফিফটি করার পর আউট হয়ে ফিরে গেছেন। হারারেতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে তার বিদায়ের পর বাংলাদেশ এখন চাপে। তানজিদ আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৩ রান, জয়ের জন্য আরও ১২৫ রান প্রয়োজন।

ফিফটি তুলে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন তানজিদ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেসার ব্রায়ান বেনেটের বলে বোল্ড হয়ে তিনি উইকেট হারান। বেনেট তার ১২ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয়বার বল হাতে নিয়ে প্রথম উইকেট পেলেন। তানজিদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তার গড়া ১০৭ বলে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভেঙে যায়।

এর আগে, ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা সতর্ক ছিল। প্রথম ৩ ওভারে ১৩ রান তোলে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার (৮ বলে ৫) ও তানজিদ হাসান (১৯ বলে ৫)। তবে ১৩ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ, মুজারাবানির হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সৌম্য। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এই জুটিও বড় হয়নি। ক্রেইগ আরভিন তার প্রথম ওভারে বল করতে এসেই ১৬ বলে ৯ রান করা নাজমুলকে ক্যাচ আউট করেন। ৯ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৩৮, উইকেট দুটি। এরপর তানজিদ ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে জয়ের আশা দেখছিল বাংলাদেশ। ২১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের রান যখন ৯৫, তখন তানজিদ ৪৩ বলে ৩৩ এবং হৃদয় ৯ বলে ৩ রান নিয়ে খেলছিলেন।

দিনের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি জানান, প্রথম ১০ ওভার কাজে লাগাতে চান তারা। প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানে হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়; মোস্তাফিজুর রহমানের বদলে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামকে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, নুরুল হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিল বেন কারানের সেঞ্চুরি। একপ্রান্ত আগলে রেখে পুরো দলকে টেনেছেন তিনি। ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন কারান, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাসকিন আহমেদকে পরপর দুই বলে চার মেরে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষদিকে ব্রেড ইভান্স ৩৮ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ এনে দেন, তাসকিনের শেষ ওভারে ২২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ দুর্দান্ত বোলিং করেন। প্রথম ওভারে কোনো রান না দিয়ে ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করে উইকেট মেডেন নেন তিনি। এরপর তার দ্বিতীয় উইকেটে ইনোসেন্ট কাইয়া ক্যাচ আউট হন। ৩ ওভারে ৮ রানে ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর নাহিদ রানা তার ইয়র্কারে ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করেন। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর বেন কারান ও ওয়েসলি মাধাভেরের ৪৫ বলে ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মাধাভেরে তার বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন ১৭.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৬৯ রান। পরে কারানের সঙ্গী হন সিকান্দার রাজা। তাদের ৯৫ বলে ৬৯ রানের জুটিটিও ভাঙেন মিরাজ। ৫৫ বলে ৩৩ রান করে রাজা তার বলে কাভারের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন। জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন ৩৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৪ রান। রিশাদ হোসেনের বলে ক্লিভে মান্দান্ধে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, যদিও এর আগে মিরাজ তার বলেই একটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন। তখন কারান ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ৩৭ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান। কারানের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ৪৫.৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান।

৮ বলে ৫ রান করেছেন সৌম্য, ১৯ বলে ৫ রান করেছেন তানজিদ হাসান।.আগের ম্যাচে ১৪২ রানই করতে পারেনি বাংলাদেশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেকের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যু

তানজিদের ফিফটির পর বিদায়, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চাপে বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান ফিফটি করার পর আউট হয়ে ফিরে গেছেন। হারারেতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে তার বিদায়ের পর বাংলাদেশ এখন চাপে। তানজিদ আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৩ রান, জয়ের জন্য আরও ১২৫ রান প্রয়োজন।

ফিফটি তুলে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন তানজিদ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেসার ব্রায়ান বেনেটের বলে বোল্ড হয়ে তিনি উইকেট হারান। বেনেট তার ১২ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয়বার বল হাতে নিয়ে প্রথম উইকেট পেলেন। তানজিদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তার গড়া ১০৭ বলে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিটি ভেঙে যায়।

এর আগে, ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা সতর্ক ছিল। প্রথম ৩ ওভারে ১৩ রান তোলে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার (৮ বলে ৫) ও তানজিদ হাসান (১৯ বলে ৫)। তবে ১৩ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ, মুজারাবানির হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সৌম্য। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এই জুটিও বড় হয়নি। ক্রেইগ আরভিন তার প্রথম ওভারে বল করতে এসেই ১৬ বলে ৯ রান করা নাজমুলকে ক্যাচ আউট করেন। ৯ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৩৮, উইকেট দুটি। এরপর তানজিদ ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতে জয়ের আশা দেখছিল বাংলাদেশ। ২১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের রান যখন ৯৫, তখন তানজিদ ৪৩ বলে ৩৩ এবং হৃদয় ৯ বলে ৩ রান নিয়ে খেলছিলেন।

দিনের শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি জানান, প্রথম ১০ ওভার কাজে লাগাতে চান তারা। প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানে হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়; মোস্তাফিজুর রহমানের বদলে বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামকে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, নুরুল হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিল বেন কারানের সেঞ্চুরি। একপ্রান্ত আগলে রেখে পুরো দলকে টেনেছেন তিনি। ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন কারান, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাসকিন আহমেদকে পরপর দুই বলে চার মেরে তিনি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষদিকে ব্রেড ইভান্স ৩৮ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ এনে দেন, তাসকিনের শেষ ওভারে ২২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ দুর্দান্ত বোলিং করেন। প্রথম ওভারে কোনো রান না দিয়ে ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করে উইকেট মেডেন নেন তিনি। এরপর তার দ্বিতীয় উইকেটে ইনোসেন্ট কাইয়া ক্যাচ আউট হন। ৩ ওভারে ৮ রানে ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর নাহিদ রানা তার ইয়র্কারে ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করেন। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর বেন কারান ও ওয়েসলি মাধাভেরের ৪৫ বলে ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মাধাভেরে তার বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন ১৭.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৬৯ রান। পরে কারানের সঙ্গী হন সিকান্দার রাজা। তাদের ৯৫ বলে ৬৯ রানের জুটিটিও ভাঙেন মিরাজ। ৫৫ বলে ৩৩ রান করে রাজা তার বলে কাভারের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন। জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন ৩৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৪ রান। রিশাদ হোসেনের বলে ক্লিভে মান্দান্ধে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, যদিও এর আগে মিরাজ তার বলেই একটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন। তখন কারান ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ৩৭ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান। কারানের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ছিল ৪৫.৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান।

৮ বলে ৫ রান করেছেন সৌম্য, ১৯ বলে ৫ রান করেছেন তানজিদ হাসান।.আগের ম্যাচে ১৪২ রানই করতে পারেনি বাংলাদেশ।