লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন, ১ আগস্ট অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন

দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় যাচ্ছেন আলোচিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী, রবীন্দ্র সদনের এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠান ছাড়াও কলকাতায় তসলিমাকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায় বলেছেন, তসলিমা নাসরিনের এই রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত দুটি সরকার মৌলবাদের কাছে নতজানু হয়েছিল, কিন্তু এখন নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই নতুন আবহে যারা দীর্ঘদিন ধরে তসলিমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তারা তাকে কলকাতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মোহিত রায় স্পষ্ট করেছেন, এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কোনো রাজনীতি নেই; এটি তসলিমার বিভিন্ন কবিতা ও গান নিয়ে আয়োজিত হবে। তিনি তসলিমার নিরাপত্তার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্য এক আয়োজক সংগঠন ‘সেক্যুলার মিশন’-এর পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান…। সকল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পরাস্ত করে তিনি আসছেন। আমরা তার সংগ্রামের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।” অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা তসলিমাকে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে তসলিমার কলকাতা সফর নিয়ে আইএসএফ নেতা, ভাঙড়ের বিধায়ক এবং ফুরফুরা দরবার শরিফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ এবং অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ইস্তাহারে বলা কোনো কথাই রাখতে পারেনি। নওশাদ সিদ্দিকীর মতে, “মুসলমানদের টাইট করাটাই উন্নয়ন।” তিনি তসলিমা নাসরিনকে “মুসলমান-বিদ্বেষী” হিসাবে পরিচিত উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি সমর্থকদের মনে হবে মুসলমানদের টাইট করা হবে, এটাই তাদের কাছে উন্নয়ন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে কলকাতার একটি অংশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা এতটাই তীব্র ছিল যে তৎকালীন বাম সরকারকে সেনা মোতায়েন করতে হয়েছিল। সেই সময় সরকার তসলিমার বিতর্কিত বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তাকে কলকাতা ছাড়তে নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলেও তসলিমার ওপর এই অলিখিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ বহাল ছিল। বর্তমানে তসলিমা নাসরিন নয়াদিল্লিতে বসবাস করছেন এবং শাসনক্ষমতায় পালাবদলের পর তিনি ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লস অ্যাঞ্জেলেসে সড়ক দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩

২০ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন, ১ আগস্ট অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় যাচ্ছেন আলোচিত ও সমালোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী, রবীন্দ্র সদনের এই অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠান ছাড়াও কলকাতায় তসলিমাকে কেন্দ্র করে আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায় বলেছেন, তসলিমা নাসরিনের এই রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত দুটি সরকার মৌলবাদের কাছে নতজানু হয়েছিল, কিন্তু এখন নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই নতুন আবহে যারা দীর্ঘদিন ধরে তসলিমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তারা তাকে কলকাতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মোহিত রায় স্পষ্ট করেছেন, এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কোনো রাজনীতি নেই; এটি তসলিমার বিভিন্ন কবিতা ও গান নিয়ে আয়োজিত হবে। তিনি তসলিমার নিরাপত্তার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্য এক আয়োজক সংগঠন ‘সেক্যুলার মিশন’-এর পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান…। সকল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পরাস্ত করে তিনি আসছেন। আমরা তার সংগ্রামের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।” অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা তসলিমাকে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে তসলিমার কলকাতা সফর নিয়ে আইএসএফ নেতা, ভাঙড়ের বিধায়ক এবং ফুরফুরা দরবার শরিফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ এবং অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ইস্তাহারে বলা কোনো কথাই রাখতে পারেনি। নওশাদ সিদ্দিকীর মতে, “মুসলমানদের টাইট করাটাই উন্নয়ন।” তিনি তসলিমা নাসরিনকে “মুসলমান-বিদ্বেষী” হিসাবে পরিচিত উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি সমর্থকদের মনে হবে মুসলমানদের টাইট করা হবে, এটাই তাদের কাছে উন্নয়ন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে কলকাতার একটি অংশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা এতটাই তীব্র ছিল যে তৎকালীন বাম সরকারকে সেনা মোতায়েন করতে হয়েছিল। সেই সময় সরকার তসলিমার বিতর্কিত বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তাকে কলকাতা ছাড়তে নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের আমলেও তসলিমার ওপর এই অলিখিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ বহাল ছিল। বর্তমানে তসলিমা নাসরিন নয়াদিল্লিতে বসবাস করছেন এবং শাসনক্ষমতায় পালাবদলের পর তিনি ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরছেন।