লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

দেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৩৯৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশ থেকে মোট তিন হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল চার হাজার ৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ শতাংশে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, শুধুমাত্র মে মাসেই রপ্তানি আয় গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ছয় হাজার ২৫ কোটি ডলার।

তবে আশার কথা হলো, প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আলোচিত ১১ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ২৭৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল দুই হাজার ৭৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রপ্তানি আয় ঋণাত্মক হওয়ায় চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ভারসাম্য ঘাটতিতে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ মাসে চলতি হিসাবে ৩০ কোটি ডলারের ঘাটতি রয়েছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল মাত্র সাত কোটি ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক ব্যালান্স অব পেমেন্ট বা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৪০১ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১১৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। এছাড়া আর্থিক হিসাবেও (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আর্থিক হিসাবে ৪১৬ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা গেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ৫৭ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও ঋণের প্রবাহ বাড়ায় এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২,৩৯৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশ থেকে মোট তিন হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল চার হাজার ৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ শতাংশে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, শুধুমাত্র মে মাসেই রপ্তানি আয় গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ছয় হাজার ২৫ কোটি ডলার।

তবে আশার কথা হলো, প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আলোচিত ১১ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ২৭৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল দুই হাজার ৭৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রপ্তানি আয় ঋণাত্মক হওয়ায় চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ভারসাম্য ঘাটতিতে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ মাসে চলতি হিসাবে ৩০ কোটি ডলারের ঘাটতি রয়েছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল মাত্র সাত কোটি ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও সার্বিক ব্যালান্স অব পেমেন্ট বা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৪০১ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১১৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। এছাড়া আর্থিক হিসাবেও (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আর্থিক হিসাবে ৪১৬ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা গেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ৫৭ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও ঋণের প্রবাহ বাড়ায় এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।