লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান। ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা আমেরিকান গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে।

নতুন এই শুল্কের আওতায় ওয়াইন ও হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছের মতো কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্যকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় পণ্যগুলো থাকুক বা না থাকুক, এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নির্বিশেষে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অটোয়া। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এটিকে ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। কার্নি একে কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে কানাডা প্রস্তুত রয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, যদি এই শুল্ক শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে কানাডার উচিত শুল্কের বদলে শুল্ক এবং ডলারের বদলে ডলার দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য বাধা চরম রূপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রেখেছে। এছাড়া নরম কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ ও গাড়ির অ-মার্কিন যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ কর বহাল রয়েছে। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও নির্দিষ্ট যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বজায় রেখেছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ট্রাম্প কানাডাকে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প কার্নিকে ‘আমেরিকার বাতাস বিষাক্ত করার’ দায়ে সতর্ক করেছিলেন। যদিও প্রজ্ঞাপনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কারণটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা এই সময়ের বিষয়টি কাকতালীয় নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষিকা হত্যা: আসল দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, আগের গ্রেপ্তারকৃতরা নির্দোষ

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানান। ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা আমেরিকান গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে।

নতুন এই শুল্কের আওতায় ওয়াইন ও হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছের মতো কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্যকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় পণ্যগুলো থাকুক বা না থাকুক, এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নির্বিশেষে এই শুল্ক কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অটোয়া। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এটিকে ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। কার্নি একে কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে কানাডা প্রস্তুত রয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডও এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, যদি এই শুল্ক শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে কানাডার উচিত শুল্কের বদলে শুল্ক এবং ডলারের বদলে ডলার দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য বাধা চরম রূপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রেখেছে। এছাড়া নরম কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ ও গাড়ির অ-মার্কিন যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ কর বহাল রয়েছে। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও নির্দিষ্ট যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বজায় রেখেছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ট্রাম্প কানাডাকে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প কার্নিকে ‘আমেরিকার বাতাস বিষাক্ত করার’ দায়ে সতর্ক করেছিলেন। যদিও প্রজ্ঞাপনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কারণটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা এই সময়ের বিষয়টি কাকতালীয় নয়।