লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করলে নজিরবিহীন হামলার হুঁশিয়ারি

ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে—এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় হামলা চালাবে, যা এর আগে কেউ দেখেনি। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন যে, যদি কোনো কিছু ঘটে, তবে তাদের ওপর নজিরবিহীন মাত্রায় বোমা হামলা চালাতে হবে।

চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা চালায়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে প্রাথমিক শান্তি চুক্তি বা ‘সমঝোতা স্মারক’ লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। শুক্রবার পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া না গেলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ট্রাম্পকে ইরানের একটি নতুন হত্যাচক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তবে ট্রাম্প বিষয়টি গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে জানান, ইসরায়েল এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু খুঁজে পায়নি। তিনি আরও যোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিএনএনকে বলেছেন, ইসরায়েল হয়তো ট্রাম্পকে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর চেষ্টা করছে।

উত্তেজনা আরও বেড়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে শোকাহত মানুষ ট্রাম্পের মৃত্যুর প্রতিশোধ চেয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন, যার একটিতে ট্রাম্পের মাথা বন্দুকের নিশানায় রেখে ‘রক্তপাত হবে’ বলে লেখা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বুধবার ট্রাম্পের সফর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়; কাতারি উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ন্যাটো সম্মেলন থেকে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে ফিরতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই ইরান কর্তৃক ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। গত মার্চে আসিফ মার্চেন্ট নামে একজনকে ফেডারেল জুরি দোষী সাব্যস্ত করে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর বাইডেন প্রশাসন তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, ট্রাম্পকে হত্যা করা হলে তা যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, জুনে হওয়া ‘সমঝোতা স্মারক’ কার্যত আর কার্যকর নেই। তিনি ইরানকে ‘একটি ক্যানসার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প জানান, ইরান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে, যদিও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করলে নজিরবিহীন হামলার হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে—এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় হামলা চালাবে, যা এর আগে কেউ দেখেনি। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন যে, যদি কোনো কিছু ঘটে, তবে তাদের ওপর নজিরবিহীন মাত্রায় বোমা হামলা চালাতে হবে।

চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা চালায়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে প্রাথমিক শান্তি চুক্তি বা ‘সমঝোতা স্মারক’ লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। শুক্রবার পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া না গেলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ট্রাম্পকে ইরানের একটি নতুন হত্যাচক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তবে ট্রাম্প বিষয়টি গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে জানান, ইসরায়েল এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু খুঁজে পায়নি। তিনি আরও যোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিএনএনকে বলেছেন, ইসরায়েল হয়তো ট্রাম্পকে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর চেষ্টা করছে।

উত্তেজনা আরও বেড়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে শোকাহত মানুষ ট্রাম্পের মৃত্যুর প্রতিশোধ চেয়ে ব্যানার প্রদর্শন করেন, যার একটিতে ট্রাম্পের মাথা বন্দুকের নিশানায় রেখে ‘রক্তপাত হবে’ বলে লেখা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বুধবার ট্রাম্পের সফর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়; কাতারি উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ন্যাটো সম্মেলন থেকে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে ফিরতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই ইরান কর্তৃক ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। গত মার্চে আসিফ মার্চেন্ট নামে একজনকে ফেডারেল জুরি দোষী সাব্যস্ত করে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর বাইডেন প্রশাসন তেহরানকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, ট্রাম্পকে হত্যা করা হলে তা যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, জুনে হওয়া ‘সমঝোতা স্মারক’ কার্যত আর কার্যকর নেই। তিনি ইরানকে ‘একটি ক্যানসার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প জানান, ইরান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে, যদিও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।