লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টার্কি পাখি: পরিচিতি, পালন পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ

আমাদের দেশে এখন অনেকেই টার্কি পাখি পুষছেন, যদিও এটি মূলত মেক্সিকো এবং কেন্দ্রীয় আমেরিকার মেসোআমেরিকান অঞ্চলের বন্য প্রজাতির পাখি। বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারার সক্ষমতার কারণে বর্তমানে টার্কিকে গৃহপালিত পাখি হিসেবে লালনপালন করা হচ্ছে। এই পাখিগুলো দেখতে বেশ সুন্দর এবং পুরুষ টার্কি ময়ূরের মতো পেখম মেলে রাজকীয় ভঙ্গিতে চলাফেরা করতে পারে।

পুরুষ ও স্ত্রী টার্কিকে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। পুরুষ টার্কিকে 'টম' এবং স্ত্রী টার্কিকে 'হেন' নামে অভিহিত করা হয়। এরা 'এভিস' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ফ্যাসিয়েনিডি (Phasianidae) পরিবারভুক্ত মিলি এগ্রিসদের গ্যালাপাভো প্রজাতির পাখি। ছোটবেলায় এদের দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো মনে হলেও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এদের শারীরিক গঠন ও চেহারা পরিবর্তিত হয়। টার্কি পাখি খুব দ্রুত বড় হয়, যার ফলে খুব অল্প সময়েই খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। সাধারণত ছয় মাস বয়সের একটি পুরুষ টার্কির ওজন অন্তত আট কেজি এবং স্ত্রী টার্কির ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

আমাদের দেশের আবহাওয়া টার্কি পালনের জন্য উপযোগী। এদের খাঁচায় বা মুক্ত অবস্থায় লালনপালন করা সম্ভব। এদের খাদ্যতালিকায় নরম ঘাস, লতাপাতা, কেঁচো, পোকামাকড়, শামুকের বাচ্চা, উইপোকা এবং রান্নাঘরের বর্জ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য টার্কি খুব একটা উপযুক্ত নয়, কারণ এদের ডিম দেওয়ার হার বেশ কম। এরা সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় মাস বয়স থেকে ডিম পাড়া শুরু করে।

টার্কির মাংসের স্বাদ মুরগির মাংসের মতোই, তবে ঝোলের চেয়ে রোস্ট করে খেলে বেশি সুস্বাদু হয়। বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদনের জন্য এটি একটি আদর্শ পাখি। এদের মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিংক, লৌহ, ভিটামিন-বি-৬, ভিটামিন-ই, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা স্বাস্থ্যরক্ষায় কার্যকর। এছাড়া এতে থাকা প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ট্রিপট্রোফেন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল কমে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরীপুরে শতবর্ষী আর কে স্কুল ভবন রক্ষায় মতবিনিময় সভা

টার্কি পাখি: পরিচিতি, পালন পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

আমাদের দেশে এখন অনেকেই টার্কি পাখি পুষছেন, যদিও এটি মূলত মেক্সিকো এবং কেন্দ্রীয় আমেরিকার মেসোআমেরিকান অঞ্চলের বন্য প্রজাতির পাখি। বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারার সক্ষমতার কারণে বর্তমানে টার্কিকে গৃহপালিত পাখি হিসেবে লালনপালন করা হচ্ছে। এই পাখিগুলো দেখতে বেশ সুন্দর এবং পুরুষ টার্কি ময়ূরের মতো পেখম মেলে রাজকীয় ভঙ্গিতে চলাফেরা করতে পারে।

পুরুষ ও স্ত্রী টার্কিকে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। পুরুষ টার্কিকে 'টম' এবং স্ত্রী টার্কিকে 'হেন' নামে অভিহিত করা হয়। এরা 'এভিস' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ফ্যাসিয়েনিডি (Phasianidae) পরিবারভুক্ত মিলি এগ্রিসদের গ্যালাপাভো প্রজাতির পাখি। ছোটবেলায় এদের দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো মনে হলেও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এদের শারীরিক গঠন ও চেহারা পরিবর্তিত হয়। টার্কি পাখি খুব দ্রুত বড় হয়, যার ফলে খুব অল্প সময়েই খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। সাধারণত ছয় মাস বয়সের একটি পুরুষ টার্কির ওজন অন্তত আট কেজি এবং স্ত্রী টার্কির ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

আমাদের দেশের আবহাওয়া টার্কি পালনের জন্য উপযোগী। এদের খাঁচায় বা মুক্ত অবস্থায় লালনপালন করা সম্ভব। এদের খাদ্যতালিকায় নরম ঘাস, লতাপাতা, কেঁচো, পোকামাকড়, শামুকের বাচ্চা, উইপোকা এবং রান্নাঘরের বর্জ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য টার্কি খুব একটা উপযুক্ত নয়, কারণ এদের ডিম দেওয়ার হার বেশ কম। এরা সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় মাস বয়স থেকে ডিম পাড়া শুরু করে।

টার্কির মাংসের স্বাদ মুরগির মাংসের মতোই, তবে ঝোলের চেয়ে রোস্ট করে খেলে বেশি সুস্বাদু হয়। বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদনের জন্য এটি একটি আদর্শ পাখি। এদের মাংসে প্রচুর পরিমাণে জিংক, লৌহ, ভিটামিন-বি-৬, ভিটামিন-ই, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা স্বাস্থ্যরক্ষায় কার্যকর। এছাড়া এতে থাকা প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ট্রিপট্রোফেন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল কমে।