লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিয়েতনামী নারিকেল চারায় কোটি টাকার দুর্নীতি, চরম ক্ষতির মুখে কৃষকরা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফল উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়িত একটি সরকারি প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের 'বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প'-এর আওতায় ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে প্রতারিত হয়েছেন দেশের শত শত কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা। গবেষকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব চারা দেশে এনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে এসব চারা রোপণ করে বাগান নষ্ট হওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা, যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলা ও পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অনেককে।

২০১৫ সালে ৫ বছর মেয়াদে (২০১৫-১৯) শুরু হওয়া ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রাথমিক বাজেট ছিল ১৯৫ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ব্যয় বাড়ানোর বিধান থাকলেও নিয়ম ভেঙে তিন দফায় বাজেট বাড়িয়ে ৬৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। অর্থাৎ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে প্রায় ২২৭ শতাংশ। ছোট জাতের নারিকেল চারার পাশাপাশি সৌদি খেজুর, কফি ও কাজুবাদাম চাষ এবং কৃষক প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে এর সুফল পাননি কৃষকরা। প্রকল্পের প্রথম পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার পরও চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়িয়ে পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তা ও পরে অন্য প্রকল্পের পরিচালক হওয়া তালহা জুবায়েরের প্রকল্পে সাবেক মন্ত্রীর সুপারিশে মাসে ৩ লাখ টাকা বেতনে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পান, যাকে সরকারি তহবিলের অস্বাভাবিক অপচয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গবেষকদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ট্রায়াল বা পরীক্ষা ছাড়াই ভিয়েতনাম থেকে এসব নারিকেল চারা আমদানি করা হয়েছিল। কৃষি গবেষক মো. শামীম জানান, তাদের পক্ষ থেকে প্রথমে হাটহাজারী, বরিশাল, জয়দেবপুরসহ ৭-৮টি গবেষণা স্টেশনে ১২-১৫টি করে চারা লাগিয়ে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ট্রায়াল না দিয়েই চারা আনা হয়, যা হর্টিকালচার সেন্টার ও গবেষণা কেন্দ্রে রোপণ করেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি গবেষক ড. মো. আলীম উদ্দিন জানান, এসব চারায় রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি সম্পর্কে ছবিসহ প্রধান কার্যালয়ে সতর্কবার্তা ও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, দুই বছরে ফলন আসার কথা থাকলেও ১০-১২টা চারা লাগিয়ে অনেক পরিচর্যা করে দেখা যায় কিছুই হচ্ছে না এবং পরে দেখা গেল চারাগুলো রোগে ভরা ও ক্ষতিকর পোকায় আক্রান্ত। কিন্তু কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় চারাগুলো বাজারজাত করা হয়। ফলে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার বাণিজ্যিক বাগানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক দরপত্রের নিয়ম তোয়াক্কা না করে 'মল্লিকা সিড' নামে একটি দেশীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমুদ্রপথে সাড়ে ৭ লাখ ভিয়েতনামী নারিকেল চারা আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনার বাইরে অতিরিক্ত কয়েক লাখ চারা এনে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। ২.৫ লাখ চারা বিনামূল্যে প্রদর্শনী বাগানের জন্য বিতরণের কথা ছিল এবং সে বাবদ সরকারের ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ও অনানুষ্ঠানিকভাবে মোট সাড়ে ৭ লাখ চারা ৫০০ টাকা গড়ে বিক্রি করে অন্তত ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়েরের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘কৃষি বায়োস্কোপ’-এর মাধ্যমে চারাগুলোর বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানো হয়। কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে পরবর্তীতে ‘শাইখ সিরাজ ফ্যান্স গ্রুপ’-সহ বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক ও ইউটিউব পেজ খুলে চারা বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। তবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ জানিয়েছেন, তার নাম ব্যবহার করে একটি চক্র এই প্রতারণামূলক ব্যবসা চালাচ্ছে এবং ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারিকেল চারায় কৃষকদের কোনো উপকারই হয়নি।

প্রতারণার শিকার হয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা মানববন্ধন ও লিখিত অভিযোগ দিলে তাদের ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। ময়মনসিংহ থেকে মোস্তাক মৃধা নামে এক কৃষি উদ্যোক্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নাটোরের এআইপি পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল কৃষক সেলিম রেজা ১ লাখ টাকায় ২০০টি চারা কিনে বাগান গড়ে ক্ষতির শিকার হন। প্রতিকার চাইলে তাকে বাড়িঘরছাড়া করা হয় এবং পুলিশের ভয় দেখানো হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরাও চরম হতাশ হয়ে পড়েন। পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার কুনিয়ারী গ্রামের কৃষক মাহমুদ কবির বলেন, বাগানে ২০-২২টি ভিয়েতনামের নারিকেল গাছ লাগালেও প্রচারণার তুলনায় ফলন খুবই কম এবং প্রচুর পরিশ্রম ও সময় দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের এআইপি প্রাপ্ত শাহবাজ হোসেন মিল্টন জানান, দেশি গাছের চেয়ে ভিয়েতনামী গাছে ফলন এক-তৃতীয়াংশ এবং এতে কঠোর পরিশ্রম ও ব্যয় করেও ভালো ফল পাওয়া যায় না।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালকদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সাবেক পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ পরামর্শক ফির কথা অস্বীকার করে সংযোগ কেটে দেন। তালহা জুবায়ের ফোন পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে সাবেক কৃষিসংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাক্ষাৎকার পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের নতুন ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ভিয়েতনামী নারিকেল চারায় কোটি টাকার দুর্নীতি, চরম ক্ষতির মুখে কৃষকরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফল উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্তবায়িত একটি সরকারি প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের 'বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প'-এর আওতায় ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে প্রতারিত হয়েছেন দেশের শত শত কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা। গবেষকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব চারা দেশে এনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে এসব চারা রোপণ করে বাগান নষ্ট হওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা, যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলা ও পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অনেককে।

২০১৫ সালে ৫ বছর মেয়াদে (২০১৫-১৯) শুরু হওয়া ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রাথমিক বাজেট ছিল ১৯৫ কোটি টাকা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ব্যয় বাড়ানোর বিধান থাকলেও নিয়ম ভেঙে তিন দফায় বাজেট বাড়িয়ে ৬৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। অর্থাৎ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে প্রায় ২২৭ শতাংশ। ছোট জাতের নারিকেল চারার পাশাপাশি সৌদি খেজুর, কফি ও কাজুবাদাম চাষ এবং কৃষক প্রশিক্ষণের নামে অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে এর সুফল পাননি কৃষকরা। প্রকল্পের প্রথম পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার পরও চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়িয়ে পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তা ও পরে অন্য প্রকল্পের পরিচালক হওয়া তালহা জুবায়েরের প্রকল্পে সাবেক মন্ত্রীর সুপারিশে মাসে ৩ লাখ টাকা বেতনে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পান, যাকে সরকারি তহবিলের অস্বাভাবিক অপচয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গবেষকদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ট্রায়াল বা পরীক্ষা ছাড়াই ভিয়েতনাম থেকে এসব নারিকেল চারা আমদানি করা হয়েছিল। কৃষি গবেষক মো. শামীম জানান, তাদের পক্ষ থেকে প্রথমে হাটহাজারী, বরিশাল, জয়দেবপুরসহ ৭-৮টি গবেষণা স্টেশনে ১২-১৫টি করে চারা লাগিয়ে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ট্রায়াল না দিয়েই চারা আনা হয়, যা হর্টিকালচার সেন্টার ও গবেষণা কেন্দ্রে রোপণ করেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি। রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি গবেষক ড. মো. আলীম উদ্দিন জানান, এসব চারায় রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি সম্পর্কে ছবিসহ প্রধান কার্যালয়ে সতর্কবার্তা ও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, দুই বছরে ফলন আসার কথা থাকলেও ১০-১২টা চারা লাগিয়ে অনেক পরিচর্যা করে দেখা যায় কিছুই হচ্ছে না এবং পরে দেখা গেল চারাগুলো রোগে ভরা ও ক্ষতিকর পোকায় আক্রান্ত। কিন্তু কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় চারাগুলো বাজারজাত করা হয়। ফলে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার বাণিজ্যিক বাগানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক দরপত্রের নিয়ম তোয়াক্কা না করে 'মল্লিকা সিড' নামে একটি দেশীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমুদ্রপথে সাড়ে ৭ লাখ ভিয়েতনামী নারিকেল চারা আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবনার বাইরে অতিরিক্ত কয়েক লাখ চারা এনে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। ২.৫ লাখ চারা বিনামূল্যে প্রদর্শনী বাগানের জন্য বিতরণের কথা ছিল এবং সে বাবদ সরকারের ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ও অনানুষ্ঠানিকভাবে মোট সাড়ে ৭ লাখ চারা ৫০০ টাকা গড়ে বিক্রি করে অন্তত ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়েরের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘কৃষি বায়োস্কোপ’-এর মাধ্যমে চারাগুলোর বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানো হয়। কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে পরবর্তীতে ‘শাইখ সিরাজ ফ্যান্স গ্রুপ’-সহ বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক ও ইউটিউব পেজ খুলে চারা বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। তবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ জানিয়েছেন, তার নাম ব্যবহার করে একটি চক্র এই প্রতারণামূলক ব্যবসা চালাচ্ছে এবং ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারিকেল চারায় কৃষকদের কোনো উপকারই হয়নি।

প্রতারণার শিকার হয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা মানববন্ধন ও লিখিত অভিযোগ দিলে তাদের ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। ময়মনসিংহ থেকে মোস্তাক মৃধা নামে এক কৃষি উদ্যোক্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নাটোরের এআইপি পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল কৃষক সেলিম রেজা ১ লাখ টাকায় ২০০টি চারা কিনে বাগান গড়ে ক্ষতির শিকার হন। প্রতিকার চাইলে তাকে বাড়িঘরছাড়া করা হয় এবং পুলিশের ভয় দেখানো হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরাও চরম হতাশ হয়ে পড়েন। পিরোজপুরের নেসারাবাদ উপজেলার কুনিয়ারী গ্রামের কৃষক মাহমুদ কবির বলেন, বাগানে ২০-২২টি ভিয়েতনামের নারিকেল গাছ লাগালেও প্রচারণার তুলনায় ফলন খুবই কম এবং প্রচুর পরিশ্রম ও সময় দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না। এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের এআইপি প্রাপ্ত শাহবাজ হোসেন মিল্টন জানান, দেশি গাছের চেয়ে ভিয়েতনামী গাছে ফলন এক-তৃতীয়াংশ এবং এতে কঠোর পরিশ্রম ও ব্যয় করেও ভালো ফল পাওয়া যায় না।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালকদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সাবেক পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ পরামর্শক ফির কথা অস্বীকার করে সংযোগ কেটে দেন। তালহা জুবায়ের ফোন পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে সাবেক কৃষিসংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাক্ষাৎকার পাওয়া সম্ভব হয়নি।