লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন নিয়ামক হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন। শুধু ঢাকা বা নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত নয়, বরং কলকাতার রাজনীতিও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক পল্লবী রায়।

শনিবার বিকেলে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’ সম্মেলনের একক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘হোয়েন বর্ডার্স ক্যাননট সেপারেট পলিটিকস: ওয়েস্ট বেঙ্গলস পলিটিক্যাল ট্রান্সিশন, হোয়াই ইট হ্যাপেনড, অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন।

পল্লবী রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি অনানুষ্ঠানিক সেতুবন্ধ বা ‘বাফার’ হিসেবে কাজ করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই বাফার দুর্বল হলে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, এমনকি সীমান্ত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

তিস্তার পানিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সমস্যাকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়। নদীটির প্রবাহের বড় অংশ সিকিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে এই সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিকিমের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে পল্লবী রায় বলেন, দিল্লি যদি উন্নয়ন সহযোগিতা ও অবকাঠামো প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে বর্তমান সরকারের জন্য সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা বড় প্রশ্ন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যে জনমত গড়ে উঠেছিল, তার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

বক্তৃতার শেষ দিকে তিনি পরিচয়ের রাজনীতিকে ভবিষ্যতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে ‘বাঙালি’ পরিচয়কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি ভারতের একটি রাজ্যের পরিচয়ের বিষয় হলেও বাংলাদেশের জন্য তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে ‘বাঙালি’ পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়কে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না করে সহাবস্থানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই ইতিবাচক হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা ও জয়সহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, তদন্তে পিবিআই

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন নিয়ামক হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন। শুধু ঢাকা বা নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত নয়, বরং কলকাতার রাজনীতিও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক পল্লবী রায়।

শনিবার বিকেলে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’ সম্মেলনের একক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘হোয়েন বর্ডার্স ক্যাননট সেপারেট পলিটিকস: ওয়েস্ট বেঙ্গলস পলিটিক্যাল ট্রান্সিশন, হোয়াই ইট হ্যাপেনড, অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন।

পল্লবী রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি অনানুষ্ঠানিক সেতুবন্ধ বা ‘বাফার’ হিসেবে কাজ করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও পশ্চিমবঙ্গ প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে। তবে এই বাফার দুর্বল হলে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, এমনকি সীমান্ত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

তিস্তার পানিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সমস্যাকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়। নদীটির প্রবাহের বড় অংশ সিকিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে এই সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকার ও সিকিমের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালের পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে পল্লবী রায় বলেন, দিল্লি যদি উন্নয়ন সহযোগিতা ও অবকাঠামো প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে বর্তমান সরকারের জন্য সেটি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা বড় প্রশ্ন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যে জনমত গড়ে উঠেছিল, তার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।

বক্তৃতার শেষ দিকে তিনি পরিচয়ের রাজনীতিকে ভবিষ্যতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে ‘বাঙালি’ পরিচয়কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি ভারতের একটি রাজ্যের পরিচয়ের বিষয় হলেও বাংলাদেশের জন্য তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে ‘বাঙালি’ পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়কে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না করে সহাবস্থানকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই ইতিবাচক হবে।