লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেরি থেকে পদ্মায় পড়ে যাওয়া নারী ৩০ কিলোমিটার ভেসে জীবিত উদ্ধার

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘কুমিল্লা’ নামের ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া এক নারীকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মোসা. লাইজু (৩৯) নামের ওই নারী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ ঝাউচর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী। তিনি মূলত বরগুনা সদর উপজেলার উরবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক গাজীর মেয়ে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ফেরিটি ছেড়ে আসে। মাঝনদীতে পৌঁছালে রাত আটটার দিকে ফেরির ডেক থেকে তিনি নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে ফেরির মাস্টার দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের এবং উভয় ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পরে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানান, নদীতে ওই নারীর একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় এবং ফোনে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

লাইজু পদ্মা নদীতে ভাসমান কচুরিপানা ধরে ভেসে যেতে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকায় পৌঁছান। সেখানে মাছ ধরার সময় স্থানীয় চার যুবক তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাঁরা স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের হেফাজতে তাঁকে দেন। কোতোয়ালি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তপন নন্দী জানান, রোববার সকাল ছয়টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বোন মোসা. পলি খাতুন ও মামা আমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তাঁর ব্যাগে থাকা ফোনে কল করে স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়।রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই কর্মকর্তা জানতে পারেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় তিন দিনের সফরে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর

ফেরি থেকে পদ্মায় পড়ে যাওয়া নারী ৩০ কিলোমিটার ভেসে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘কুমিল্লা’ নামের ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া এক নারীকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মোসা. লাইজু (৩৯) নামের ওই নারী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদ ঝাউচর এলাকার বাসিন্দা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী। তিনি মূলত বরগুনা সদর উপজেলার উরবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক গাজীর মেয়ে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ফেরিটি ছেড়ে আসে। মাঝনদীতে পৌঁছালে রাত আটটার দিকে ফেরির ডেক থেকে তিনি নদীতে পড়ে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে ফেরির মাস্টার দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের এবং উভয় ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পরে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানান, নদীতে ওই নারীর একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় এবং ফোনে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

লাইজু পদ্মা নদীতে ভাসমান কচুরিপানা ধরে ভেসে যেতে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকায় পৌঁছান। সেখানে মাছ ধরার সময় স্থানীয় চার যুবক তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাঁরা স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের হেফাজতে তাঁকে দেন। কোতোয়ালি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তপন নন্দী জানান, রোববার সকাল ছয়টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনা হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বোন মোসা. পলি খাতুন ও মামা আমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তাঁর ব্যাগে থাকা ফোনে কল করে স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়।রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই কর্মকর্তা জানতে পারেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার কবিরপুর চর এলাকায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে।