লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা মামলায় ভুল সোনা মিয়ার মৃত্যুদণ্ড, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির পরিচয় নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মামলার নথিতে ‘সোনা মিয়া’ হিসেবে যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তিনি দাবি করছেন যে তিনি ওই মামলার প্রকৃত আসামি নন। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন, পুলিশের তদন্তে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ডের পর গ্রেফতার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে পুলিশ যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে বলা হয়েছে ২০২০ সালের ২ মার্চ কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল। এজাহারে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’, পিতা মৃত নজির আহমদ, ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া ও রামু উপজেলার গর্জনিয়া উল্লেখ ছিল। তৎকালীন ডিবি পরিদর্শক মানস বড়ুয়া অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি। তবুও ২০২২ সালের ১৩ জুন ওই ব্যক্তি জামিন পান এবং পরে আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

এরপর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫ এর ওয়ারেন্টমূলে প্রকৃত সোনা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালে গ্রেফতার হওয়া প্রকৃত অপরাধীর নাম রমজান। সে সোনা মিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে সোনা মিয়া হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও পরে কুতুবদিয়াপাড়ায় একই ঘরে বসবাস করতেন, যেখানেই জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপিটি রমজানের হাতে পড়ে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দুই ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও পারিবারিক তথ্যে ব্যাপক অমিল পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে গ্রেফতার হওয়া রমজানের পিতার নাম মৃত নজির আহমদ হলেও তার মাতার নাম সোনারা বেগম এবং স্ত্রীর নাম আয়েশা। তার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ওজন ৫০ কেজি। বিপরীতে, ২০২৬ সালে গ্রেফতার সোনা মিয়ার মায়ের নাম মাহমুদা খাতুন, স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস এবং উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪২ কেজি। তাদের সন্তানদের নাম ও সংখ্যাতেও ভিন্নতা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তার চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, অন্যের জন্ম নিবন্ধন যাচাই না করে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং প্রকৃত আসামি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুতর বিষয়। বর্তমানে সোনা মিয়া ও তার পরিবার আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ঘটনা এখন বড় প্রশ্ন তুলেছে যে আসল অপরাধী রমজান কোথায় এবং কেন একজনের অপরাধে অন্যজনকে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে অটো পার্টসের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক

ইয়াবা মামলায় ভুল সোনা মিয়ার মৃত্যুদণ্ড, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির পরিচয় নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মামলার নথিতে ‘সোনা মিয়া’ হিসেবে যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তিনি দাবি করছেন যে তিনি ওই মামলার প্রকৃত আসামি নন। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন, পুলিশের তদন্তে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ডের পর গ্রেফতার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে পুলিশ যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে বলা হয়েছে ২০২০ সালের ২ মার্চ কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল। এজাহারে দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’, পিতা মৃত নজির আহমদ, ঠিকানা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া ও রামু উপজেলার গর্জনিয়া উল্লেখ ছিল। তৎকালীন ডিবি পরিদর্শক মানস বড়ুয়া অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি। তবুও ২০২২ সালের ১৩ জুন ওই ব্যক্তি জামিন পান এবং পরে আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

এরপর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫ এর ওয়ারেন্টমূলে প্রকৃত সোনা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালে গ্রেফতার হওয়া প্রকৃত অপরাধীর নাম রমজান। সে সোনা মিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড ব্যবহার করে নিজেকে সোনা মিয়া হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। রমজান ও সোনা মিয়া একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও পরে কুতুবদিয়াপাড়ায় একই ঘরে বসবাস করতেন, যেখানেই জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপিটি রমজানের হাতে পড়ে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দুই ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও পারিবারিক তথ্যে ব্যাপক অমিল পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে গ্রেফতার হওয়া রমজানের পিতার নাম মৃত নজির আহমদ হলেও তার মাতার নাম সোনারা বেগম এবং স্ত্রীর নাম আয়েশা। তার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ওজন ৫০ কেজি। বিপরীতে, ২০২৬ সালে গ্রেফতার সোনা মিয়ার মায়ের নাম মাহমুদা খাতুন, স্ত্রীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস এবং উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, ওজন ৪২ কেজি। তাদের সন্তানদের নাম ও সংখ্যাতেও ভিন্নতা রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তার চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, অন্যের জন্ম নিবন্ধন যাচাই না করে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং প্রকৃত আসামি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুতর বিষয়। বর্তমানে সোনা মিয়া ও তার পরিবার আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ ঘটনা এখন বড় প্রশ্ন তুলেছে যে আসল অপরাধী রমজান কোথায় এবং কেন একজনের অপরাধে অন্যজনকে মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবে কারাগারে থাকতে হচ্ছে।