লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা

১৯৯৯ সালের ২৫শে নভেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে চলন্ত ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ট্রাকচালক নওশাদ নসু মারা যান। এই ঘটনায় মতিঝিল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০২ সালে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে অভিযোগপত্র থেকে মির্জা আব্বাসসহ ২০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং বাকি আটজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘটনার পর প্রায় ২৭ বছর অতিবাহিত হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ এই সময়ে ২৬০ বারেরও বেশি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য হলেও একজন সাক্ষীও আদালতে এসে সাক্ষ্য দেননি। অভিযোগপত্রে থাকা ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এসআই মাহবুবুর রহমান, এসআই ইসহাক মল্লিক, এসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই হারুনুর রশীদ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার ডা. মোস্তাক রহিমসহ কেউই আদালতে হাজির হননি। তাদের হাজির করতে বারবার সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ২০১৮ সালে মামলার বাদী এসআই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, কিন্তু তাকেও আদালতে পাওয়া যায়নি।

মামলাটি ২০০২ সালের মার্চে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়, পরে তা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এবং পরবর্তীতে ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আদালত পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম থমকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণের জটিলতায়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা বারবার মামলাটি খারিজের আবেদন করলেও আদালত প্রতিবারই নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

আইনজীবী শাকিল আহমেদ রিপন বলেন, এই মামলাটি ছিল মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২৭ বছর ধরে বিনা বিচারে আসামিদের হয়রানি করা অমানবিক। একইভাবে আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মিসবাহ দাবি করেন, সাক্ষী বা মামলার বাদী কাউকে আদালতে হাজির করতে না পারায় মামলা ঝুলিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আসামিরা অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আছেন এবং বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

২৭ বছর ধরে ঝুলে আছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

১৯৯৯ সালের ২৫শে নভেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে চলন্ত ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ট্রাকচালক নওশাদ নসু মারা যান। এই ঘটনায় মতিঝিল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০২ সালে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে অভিযোগপত্র থেকে মির্জা আব্বাসসহ ২০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং বাকি আটজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘটনার পর প্রায় ২৭ বছর অতিবাহিত হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ এই সময়ে ২৬০ বারেরও বেশি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য হলেও একজন সাক্ষীও আদালতে এসে সাক্ষ্য দেননি। অভিযোগপত্রে থাকা ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এসআই মাহবুবুর রহমান, এসআই ইসহাক মল্লিক, এসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই হারুনুর রশীদ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার ডা. মোস্তাক রহিমসহ কেউই আদালতে হাজির হননি। তাদের হাজির করতে বারবার সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ২০১৮ সালে মামলার বাদী এসআই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, কিন্তু তাকেও আদালতে পাওয়া যায়নি।

মামলাটি ২০০২ সালের মার্চে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়, পরে তা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এবং পরবর্তীতে ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আদালত পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম থমকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণের জটিলতায়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা বারবার মামলাটি খারিজের আবেদন করলেও আদালত প্রতিবারই নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

আইনজীবী শাকিল আহমেদ রিপন বলেন, এই মামলাটি ছিল মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২৭ বছর ধরে বিনা বিচারে আসামিদের হয়রানি করা অমানবিক। একইভাবে আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মিসবাহ দাবি করেন, সাক্ষী বা মামলার বাদী কাউকে আদালতে হাজির করতে না পারায় মামলা ঝুলিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আসামিরা অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আছেন এবং বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।