লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা নিম্নবিত্ত, জীবনযাত্রায় হিমশিম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখী দামে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ ও ডিমসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে গিয়ে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হলেও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রিকশাচালক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে একের পর এক পণ্য বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ধারদেনা করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতল, মিগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছের দাম হাজার টাকার উপরে। এছাড়া চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞরা বাজার তদারকি জোরদার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও খাদ্যপণ্যের উচ্চ দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এখনো বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

নিত্যপণ্যের চড়া দামে দিশেহারা নিম্নবিত্ত, জীবনযাত্রায় হিমশিম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখী দামে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ ও ডিমসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানো এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে গিয়ে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হলেও আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রিকশাচালক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে একের পর এক পণ্য বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ধারদেনা করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতল, মিগেল ও পোয়া মাছের দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছের দাম হাজার টাকার উপরে। এছাড়া চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞরা বাজার তদারকি জোরদার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও খাদ্যপণ্যের উচ্চ দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এখনো বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।