লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৈনন্দিন খাদ্যে বিষের ছড়াছড়ি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকা পানি থেকে শুরু করে শাকসবজি, তেল, দুধ, মসলা, মিষ্টি ও শিশুখাদ্যে মিলেছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং মারাত্মক সব জীবাণু। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরীক্ষা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব দূষিত খাবার গ্রহণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের রোগ, হৃদরোগ এবং থাইরয়েডের জটিলতাসহ নানা মারাত্মক শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি শিশুদের বিকাশজনিত সমস্যা, অ্যালার্জি ও নানা ধরনের পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। অতি মুনাফার লোভে মাছ, মাংস, ফল ও মসলায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে এবং অপরিপক্ব ফল পাকাতে কার্বাইড ও হরমোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের পেটে যাচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় খাবার পানিতে মরণব্যাধি জীবাণুর উপস্থিতি মিলেছে। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে দিনাজপুরের প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে ১২০ সিএফইউ এবং খাগড়াছড়ির ১০০ মিলিলিটার পানিতে ৬০ সিএফইউ ফিকাল কলিফর্মের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটের পানিতে মিলেছে ৪৩ সিএফইউ ফিকাল কলিফর্ম। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ জানান, নিরাপদ পানিতে ফিকাল কলিফর্মের মাত্রা শূন্য থাকার কথা, কারণ ফিকাল কলিফর্ম মানেই মলের অস্তিত্ব। এই পানি পানের ফলে আমাশয়, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

সুস্থতার জন্য চিকিৎসকরা সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিলেও সেই সবজিই এখন বিষে পরিণত হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত সবজির নমুনায় ১.১৬ থেকে ২.৩৭ পিপিএম মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা থাকার কথা সর্বোচ্চ ০.৩ পিপিএম। এছাড়া নমুনায় ০.৩৩ পিপিএম ক্যাডমিয়াম এবং ই-কোলাই, ফিকাল কলিফর্ম ও সালমোনেলা জীবাণুর উপস্থিতি মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসা ও ক্যাডমিয়াম মানবদেহের কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করে, শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত করে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, রাজশাহী ও গাজীপুর থেকে সংগৃহীত গুড়ের নমুনায় উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রংপুর, বান্দরবান, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও সাতক্ষীরা থেকে উদ্ধার করা মুড়ির নমুনায় মিলেছে অননুমোদিত ইউরিয়া। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লবণে কোথাও আয়োডিনের চরম ঘাটতি, আবার কোথাও অতিরিক্ত আয়োডিন পাওয়া গেছে। হলুদ ও মরিচের গুঁড়ায় মিলেছে অতিরিক্ত অ্যাশ বা ছাই, যা নিম্নমানের উপাদানের ইঙ্গিত দেয়।

ভোজ্যতেলের পরীক্ষায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড রয়েছে, যা এর গুণগত মান নষ্ট করে। সয়াবিন তেলের নমুনায় রয়েছে ভিটামিন 'এ'-এর ঘাটতি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানো ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট। খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার মধুর নমুনায় অতিরিক্ত সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ শনাক্ত হয়েছে। রাজবাড়ী ও চট্টগ্রামের ঘির নমুনায় মিল্ক ফ্যাট বা দুধের চর্বি একেবারেই অনুপস্থিত ছিল। বরিশাল থেকে সংগৃহীত মিল্ক পাউডারে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর সিসা। এছাড়া বিভিন্ন সফট ড্রিংকস ও কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত বেনজোয়িক অ্যাসিড, টারট্রাজিন ও ক্যাফেইন পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের জিলাপির নমুনায় মিলেছে নিষিদ্ধ সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট এবং বিভিন্ন জেলার আচারের নমুনায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক মিলেছে।

খাদ্যের এই ভয়াবহ চিত্র নিয়ে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডায়েটিশিয়ান সিরাজাম মুনিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে খাবার খেয়ে মানুষ সুস্থ থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক, কেমিক্যাল ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ ভেজাল খাবারকে 'নীরব ঘাতক' আখ্যা দিয়ে বলেন, চোখের সামনেই এসব হচ্ছে এবং এতে মানুষের লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

আইনি কঠোরতার বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৫, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ রয়েছে। এমনকি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজালের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানও আছে। কিন্তু সঠিক প্রয়োগ না থাকায় মানুষ বিষের সমুদ্রে সাঁতার কাটছে। অবশ্য বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

শাকসবজিতে ক্যাডমিয়াম, সিসা ও মলের জীবাণু : সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা দৈনন্দিন খাবারে সবজির উপস্থিতি বাড়াতে বলেন। অনেকেই নিজেকে সুস্থ রাখতে সবজির ওপর জোন দেন। কিন্তু এই সবজিই এখন শরীর অসুস্থের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী-রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও এলাকা থেকে সবজির নমুনা সংগ্রহ করে ১.১৬-২.৩৭ পিপিএম মাত্রার সিসার অস্তিত্ব মিলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনার বক্তব্যে ভারত সরকারের সমর্থন নেই: রণধীর জয়সওয়াল

দৈনন্দিন খাদ্যে বিষের ছড়াছড়ি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:২৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকা পানি থেকে শুরু করে শাকসবজি, তেল, দুধ, মসলা, মিষ্টি ও শিশুখাদ্যে মিলেছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং মারাত্মক সব জীবাণু। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরীক্ষা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব দূষিত খাবার গ্রহণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের রোগ, হৃদরোগ এবং থাইরয়েডের জটিলতাসহ নানা মারাত্মক শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি শিশুদের বিকাশজনিত সমস্যা, অ্যালার্জি ও নানা ধরনের পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। অতি মুনাফার লোভে মাছ, মাংস, ফল ও মসলায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে এবং অপরিপক্ব ফল পাকাতে কার্বাইড ও হরমোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের পেটে যাচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় খাবার পানিতে মরণব্যাধি জীবাণুর উপস্থিতি মিলেছে। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে দিনাজপুরের প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে ১২০ সিএফইউ এবং খাগড়াছড়ির ১০০ মিলিলিটার পানিতে ৬০ সিএফইউ ফিকাল কলিফর্মের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটের পানিতে মিলেছে ৪৩ সিএফইউ ফিকাল কলিফর্ম। এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ জানান, নিরাপদ পানিতে ফিকাল কলিফর্মের মাত্রা শূন্য থাকার কথা, কারণ ফিকাল কলিফর্ম মানেই মলের অস্তিত্ব। এই পানি পানের ফলে আমাশয়, ডায়রিয়া ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

সুস্থতার জন্য চিকিৎসকরা সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিলেও সেই সবজিই এখন বিষে পরিণত হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত সবজির নমুনায় ১.১৬ থেকে ২.৩৭ পিপিএম মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা থাকার কথা সর্বোচ্চ ০.৩ পিপিএম। এছাড়া নমুনায় ০.৩৩ পিপিএম ক্যাডমিয়াম এবং ই-কোলাই, ফিকাল কলিফর্ম ও সালমোনেলা জীবাণুর উপস্থিতি মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসা ও ক্যাডমিয়াম মানবদেহের কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করে, শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত করে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, রাজশাহী ও গাজীপুর থেকে সংগৃহীত গুড়ের নমুনায় উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রংপুর, বান্দরবান, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও সাতক্ষীরা থেকে উদ্ধার করা মুড়ির নমুনায় মিলেছে অননুমোদিত ইউরিয়া। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লবণে কোথাও আয়োডিনের চরম ঘাটতি, আবার কোথাও অতিরিক্ত আয়োডিন পাওয়া গেছে। হলুদ ও মরিচের গুঁড়ায় মিলেছে অতিরিক্ত অ্যাশ বা ছাই, যা নিম্নমানের উপাদানের ইঙ্গিত দেয়।

ভোজ্যতেলের পরীক্ষায় দেখা গেছে, সরিষার তেলে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড রয়েছে, যা এর গুণগত মান নষ্ট করে। সয়াবিন তেলের নমুনায় রয়েছে ভিটামিন 'এ'-এর ঘাটতি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানো ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট। খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার মধুর নমুনায় অতিরিক্ত সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ শনাক্ত হয়েছে। রাজবাড়ী ও চট্টগ্রামের ঘির নমুনায় মিল্ক ফ্যাট বা দুধের চর্বি একেবারেই অনুপস্থিত ছিল। বরিশাল থেকে সংগৃহীত মিল্ক পাউডারে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর সিসা। এছাড়া বিভিন্ন সফট ড্রিংকস ও কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত বেনজোয়িক অ্যাসিড, টারট্রাজিন ও ক্যাফেইন পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের জিলাপির নমুনায় মিলেছে নিষিদ্ধ সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট এবং বিভিন্ন জেলার আচারের নমুনায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক মিলেছে।

খাদ্যের এই ভয়াবহ চিত্র নিয়ে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডায়েটিশিয়ান সিরাজাম মুনিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে খাবার খেয়ে মানুষ সুস্থ থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক, কেমিক্যাল ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ ভেজাল খাবারকে 'নীরব ঘাতক' আখ্যা দিয়ে বলেন, চোখের সামনেই এসব হচ্ছে এবং এতে মানুষের লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

আইনি কঠোরতার বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৫, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ রয়েছে। এমনকি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে খাদ্যে ভেজালের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানও আছে। কিন্তু সঠিক প্রয়োগ না থাকায় মানুষ বিষের সমুদ্রে সাঁতার কাটছে। অবশ্য বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

শাকসবজিতে ক্যাডমিয়াম, সিসা ও মলের জীবাণু : সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা দৈনন্দিন খাবারে সবজির উপস্থিতি বাড়াতে বলেন। অনেকেই নিজেকে সুস্থ রাখতে সবজির ওপর জোন দেন। কিন্তু এই সবজিই এখন শরীর অসুস্থের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী-রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও এলাকা থেকে সবজির নমুনা সংগ্রহ করে ১.১৬-২.৩৭ পিপিএম মাত্রার সিসার অস্তিত্ব মিলেছে।