লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে বড় পতন

২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পরিবর্তন এসেছে। সৌদি আরব থেকে আয় বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আয় কমেছে ৩৫.৯ শতাংশ।

জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩০ হাজার ৩২৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ মিলিয়ন ডলারে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। নিলোফার চৌধুরী মনি দুই অর্থবছরের রেমিট্যান্সের তুলনামূলক চিত্র এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের জনকল্যাণমূলক ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়েছিলেন।

মন্ত্রী জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে সৌদি আরব শীর্ষে রয়েছে। দেশটি থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৬৪ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকেও রেমিট্যান্সের বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ১৬৮ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে পরের অর্থবছরে ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা প্রায় ৬০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি।

অন্যান্য দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪ হাজার ১৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৮০৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার, ওমান থেকে ১ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ইতালি থেকে ১ হাজার ৬৫২ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া কুয়েত থেকে ১ হাজার ৬২৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৬৩ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার, কাতার থেকে ১ হাজার ২০৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০২ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬৬৮ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জিত হয়েছে।

অন্যদিকে, কিছু দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসার হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এছাড়া কানাডা থেকে রেমিট্যান্স প্রায় ৫০ শতাংশ কমে ২২০ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার থেকে ১১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়া ফ্রান্স থেকে রেমিট্যান্স ৩৩৫ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫ দশমিক ১১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান থেকে ১৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৯৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫৮ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে বড় পতন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩০ হাজার ৩২৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫৮৯ মিলিয়ন ডলারে। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। নিলোফার চৌধুরী মনি দুই অর্থবছরের রেমিট্যান্সের তুলনামূলক চিত্র এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের জনকল্যাণমূলক ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়েছিলেন।

মন্ত্রী জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে সৌদি আরব শীর্ষে রয়েছে। দেশটি থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৬৪ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকেও রেমিট্যান্সের বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ১৬৮ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে পরের অর্থবছরে ৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা প্রায় ৬০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি।

অন্যান্য দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪ হাজার ১৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৮০৪ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৪০৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার, ওমান থেকে ১ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৮ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ইতালি থেকে ১ হাজার ৬৫২ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫১ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া কুয়েত থেকে ১ হাজার ৬২৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৬৩ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার, কাতার থেকে ১ হাজার ২০৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০২ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬৬৮ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জিত হয়েছে।

অন্যদিকে, কিছু দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স আসার হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ হাজার ৭৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩ হাজার ৩৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এছাড়া কানাডা থেকে রেমিট্যান্স প্রায় ৫০ শতাংশ কমে ২২০ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার থেকে ১১০ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়া ফ্রান্স থেকে রেমিট্যান্স ৩৩৫ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫ দশমিক ১১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান থেকে ১৬৮ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৯৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫৮ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।