লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার

ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে সরকার তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে একটি জুম মিটিং করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি হিসেবে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ফিল্ড হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এই বিশেষ আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়। এছাড়া রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কিট বা স্যালাইনের ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতালের নিজস্ব তহবিল থেকে তা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। মসজিদের ইমাম এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৩ জুন গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ডিজিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, আইইডিসিআর এবং হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেলও গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবি খালেদা জিয়া হলে পাঁচ শতাধিক ছাত্রীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে সরকার তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে একটি জুম মিটিং করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি হিসেবে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ফিল্ড হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এই বিশেষ আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়। এছাড়া রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কিট বা স্যালাইনের ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতালের নিজস্ব তহবিল থেকে তা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। মসজিদের ইমাম এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৩ জুন গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ডিজিএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, আইইডিসিআর এবং হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেলও গঠন করা হয়েছে।