লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা দিলেই মিলছে মন্ত্রীরও কল রেকর্ড, অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নাগরিকদের গোপন তথ্য

টাকা দিলেই দেশের যেকোনো মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর কল রেকর্ড (সিডিআর), অবস্থান ও খুদে বার্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও মন্ত্রীরাও এই তথ্য ফাঁসের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অনলাইনে রীতিমতো ওয়েবসাইট খুলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নাগরিকদের এসব ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর একজন মন্ত্রীর মোবাইল নম্বর এবং নির্ধারিত টাকা পাঠানো হয়েছিল তথ্য বিক্রিকারী একটি চক্রের কাছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই মন্ত্রীর গত তিন মাসের কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর সরবরাহ করে তারা। সেই সিডিআরে মন্ত্রী কার সঙ্গে কতক্ষণ কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন এবং কথা বলার সময় তাঁর অবস্থান কোথায় ছিল—তার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে তাঁর নিজের মুঠোফোনের তথ্যের সঙ্গে এই সিডিআর মিলিয়ে দেখা হয়। সিডিআরটি সম্পূর্ণ আসল বলে নিশ্চিত হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ওই মন্ত্রী বলেন, "এটা কীভাবে সম্ভব! তাহলে তো কেউ নিরাপদ নয়।"

কেবল ওই মন্ত্রীই নন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার প্রধান এবং দুজন কর্মীর মুঠোফোন নম্বরের সিডিআরও সংগ্রহ করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধন ও টাকা দেওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে একটি সংস্থার মহাপরিচালকের সিডিআর চলে আসে। ৮ সেপ্টেম্বর ওই কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি সিডিআরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিডিআর ফাঁস হওয়ার বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল, কিন্তু এত সহজে এত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে তা তিনি ভাবেননি।

অনলাইনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার একটি বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি হচ্ছে। ৩ মাসের সিডিআর পেতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা এবং ৬ মাসের জন্য লাগছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এসব ওয়েবসাইটের হোমপেজে ঢুকলে এনআইডি ও স্মার্ট এনআইডি তৈরি, জন্মনিবন্ধন, বায়োমেট্রিক অর্ডার, লোকেশন ট্র্যাক, কললিস্ট, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের তথ্য এবং পাসপোর্টের এসবি কপি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়। চক্রগুলো ক্রেতাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে যোগাযোগ রক্ষা করে।

গত ৩১ আগস্ট তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিসমিসল্যাব’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে এমন ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে ৬০০-এর বেশি পোস্টের সন্ধান পেয়েছে তারা। এর আগে গত অক্টোবরেও কিছু সিডিআর সংগ্রহ করা হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৩৬টি সরকারি ও ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। ২০২৩ সালে ৫ কোটি মানুষের এনআইডি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ সে সময় দাবি করেছিলেন, এই তথ্য ফাঁস জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়।

গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে মোবাইল অপারেটরদের কাছে। কল বা এসএমএসের সময় ব্যবহৃত টাওয়ার ও আইএমইআই নম্বরসহ এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১২টি সরকারি সংস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মোবাইল অপারেটরের এক কর্মকর্তা জানান, কিছু সরকারি সংস্থার নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা অপারেটরের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারেন। এ জন্য অপারেটরের কাছে আলাদাভাবে তথ্য চাওয়ারও প্রয়োজন হয় না। তবে গ্রামীণফোন ও রবি লিখিত জবাবে দাবি করেছে, তাদের তথ্যভান্ডারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং শুধু অনুমোদিত ব্যক্তিরাই আইন অনুযায়ী এই তথ্য দেখতে পারেন।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি হওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য যদি এভাবে বিক্রি হয়, সেটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে মিলে বিটিআরসি কাজ করছে। অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি ও ফাঁস হওয়া চলতে দেওয়া যায় না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই চক্রকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

ব্যক্তিগত তথ্যের এই উন্মুক্ত কেনাবেচাকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ মানুষের একান্ত গোপনীয় তথ্য। অপরাধী চক্র সিডিআর কিনে কারও গতিবিধি নজরে রেখে ক্ষতি করতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই বাণিজ্য নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত এবং ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ (২০২২) জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য বলছে, দেশের পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের ৫৬ শতাংশ মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করেন।একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে কাকে কল করেন, কে তাঁকে ফোন করেন, কী কী খুদে বার্তা বিনিময় হয়—এসব তথ্য সংরক্ষণ করে মোবাইল অপারেটরগুলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবি খালেদা জিয়া হলে পাঁচ শতাধিক ছাত্রীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

টাকা দিলেই মিলছে মন্ত্রীরও কল রেকর্ড, অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে নাগরিকদের গোপন তথ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাকা দিলেই দেশের যেকোনো মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর কল রেকর্ড (সিডিআর), অবস্থান ও খুদে বার্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও মন্ত্রীরাও এই তথ্য ফাঁসের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অনলাইনে রীতিমতো ওয়েবসাইট খুলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে নাগরিকদের এসব ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর একজন মন্ত্রীর মোবাইল নম্বর এবং নির্ধারিত টাকা পাঠানো হয়েছিল তথ্য বিক্রিকারী একটি চক্রের কাছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই মন্ত্রীর গত তিন মাসের কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর সরবরাহ করে তারা। সেই সিডিআরে মন্ত্রী কার সঙ্গে কতক্ষণ কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন এবং কথা বলার সময় তাঁর অবস্থান কোথায় ছিল—তার বিস্তারিত বিবরণ ছিল। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে তাঁর নিজের মুঠোফোনের তথ্যের সঙ্গে এই সিডিআর মিলিয়ে দেখা হয়। সিডিআরটি সম্পূর্ণ আসল বলে নিশ্চিত হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ওই মন্ত্রী বলেন, "এটা কীভাবে সম্ভব! তাহলে তো কেউ নিরাপদ নয়।"

কেবল ওই মন্ত্রীই নন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার প্রধান এবং দুজন কর্মীর মুঠোফোন নম্বরের সিডিআরও সংগ্রহ করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধন ও টাকা দেওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে একটি সংস্থার মহাপরিচালকের সিডিআর চলে আসে। ৮ সেপ্টেম্বর ওই কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি সিডিআরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিডিআর ফাঁস হওয়ার বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল, কিন্তু এত সহজে এত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে তা তিনি ভাবেননি।

অনলাইনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার একটি বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি হচ্ছে। ৩ মাসের সিডিআর পেতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা এবং ৬ মাসের জন্য লাগছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এসব ওয়েবসাইটের হোমপেজে ঢুকলে এনআইডি ও স্মার্ট এনআইডি তৈরি, জন্মনিবন্ধন, বায়োমেট্রিক অর্ডার, লোকেশন ট্র্যাক, কললিস্ট, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের তথ্য এবং পাসপোর্টের এসবি কপি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়। চক্রগুলো ক্রেতাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে যোগাযোগ রক্ষা করে।

গত ৩১ আগস্ট তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিসমিসল্যাব’ তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে এমন ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকে ৬০০-এর বেশি পোস্টের সন্ধান পেয়েছে তারা। এর আগে গত অক্টোবরেও কিছু সিডিআর সংগ্রহ করা হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৩৬টি সরকারি ও ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। ২০২৩ সালে ৫ কোটি মানুষের এনআইডি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ সে সময় দাবি করেছিলেন, এই তথ্য ফাঁস জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়।

গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে মোবাইল অপারেটরদের কাছে। কল বা এসএমএসের সময় ব্যবহৃত টাওয়ার ও আইএমইআই নম্বরসহ এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১২টি সরকারি সংস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মোবাইল অপারেটরের এক কর্মকর্তা জানান, কিছু সরকারি সংস্থার নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা অপারেটরের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করতে পারেন। এ জন্য অপারেটরের কাছে আলাদাভাবে তথ্য চাওয়ারও প্রয়োজন হয় না। তবে গ্রামীণফোন ও রবি লিখিত জবাবে দাবি করেছে, তাদের তথ্যভান্ডারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং শুধু অনুমোদিত ব্যক্তিরাই আইন অনুযায়ী এই তথ্য দেখতে পারেন।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি হওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য যদি এভাবে বিক্রি হয়, সেটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে মিলে বিটিআরসি কাজ করছে। অন্যদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি ও ফাঁস হওয়া চলতে দেওয়া যায় না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই চক্রকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

ব্যক্তিগত তথ্যের এই উন্মুক্ত কেনাবেচাকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ মানুষের একান্ত গোপনীয় তথ্য। অপরাধী চক্র সিডিআর কিনে কারও গতিবিধি নজরে রেখে ক্ষতি করতে পারে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই বাণিজ্য নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত এবং ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ (২০২২) জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য বলছে, দেশের পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের ৫৬ শতাংশ মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করেন।একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে কাকে কল করেন, কে তাঁকে ফোন করেন, কী কী খুদে বার্তা বিনিময় হয়—এসব তথ্য সংরক্ষণ করে মোবাইল অপারেটরগুলো।